ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাতটি কলেজের চলমান সকল পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে নীলক্ষেতে মোড় অবরোধ করে যানচলাচল বন্ধ করে দিয়েছে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাত কলেজের অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ডিনকে নিয়ে স্থগিত এ সিদ্ধান্ত নেওয়া পরপরই বিক্ষোভে নামে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সাথে প্রহসন করছে। আমাদের দাবি একটাই, চলমান সব পরীক্ষা নিতে হবে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, মানববন্ধন, অনশন কর্মসূচি সর্বশেষ সিদ্দিকের (তিতুমির কলের শিক্ষার্থী) চোঁখের বিনিময়ে ঢাবি আমাদের কার্যক্রম ধীরগতিতে শুরু করে। আন্দোলনের পর আমাদের পরীক্ষা শুরু হলেও এখন মাঝপথে বন্ধ করে দিয়েছে। এটা কেমন খেলা খেলছে ঢাবি?
ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী তামিম বলেন, আমাদের সমস্যাগুলো নিয়ে কলেজের শিক্ষকদের কাছে গেলে উনারা বলেন, ঢাবি তোমাদের সব কার্যক্রম করছে, আর ঢাবির প্রশাসনিক ভবনে গেলে বলে, সাত কলেজের শিক্ষকরা সভা করে সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এভাবেই শিক্ষাথীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দীর্ঘ সময় মিরপুর রোডের সকল যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ এসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কয়েক দফা সরিয়ে দিতে চাইলেও তারা আন্দোলন চালিয়ে যায়। একই সাথে চলমান পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়া সহ সব দাবি মেনে না নিলে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দেয় তারা।
সাত কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত (ফোকাল পয়েন্ট) ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকারের সাথে কথা হলে মুঠোফোনে দেশ রূপান্তরকে জানান, পরীক্ষা নেওয়া না নেওয়া ঢাবির এখতিয়ার। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য সুপারিশ করতে পারি। তারা সিদ্ধান্ত নেয়।
তিনি আরও জানান, পরীক্ষাগুলো স্থগিত করা হয়েছে। চতুর্থ বর্ষের বাকি একটা পরিক্ষাসহ সকল পরিক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আগামী সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত আর কোনো পরিক্ষা নেওয়া হবে না।
অধিভুক্ত কলেজগুলো হচ্ছে- ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ।
