আজিমপুরে চিরনিদ্রায় শায়িত সৈয়দ আবুল মকসুদ

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:২০ পিএম

সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা নিবেদনের পর রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মৃত্যু হয় সৈয়দ আবুল মকসুদের। ধানমন্ডির বাসায় হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ার পর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাতে মরদেহ রাখা হয় হিমাগারে।

বুধবার দুপুর আড়াইটায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আনা হয় সৈয়দ আবুল মকসুদের মরদেহ। সেখানে দ্বিতীয় জানাজায় অংশ নেয় তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। এরপর সৈয়দ আবুল মকসুদের মরদেহে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ, বিএফইউজে, ডিইউজে, বাসস, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, পিআইবি, সাব এডিটরস কাউন্সিলের নেতারা।

আবুল মকসুদের ছেলে নাসিফ মকসুদ বলেন, জীবনের বেশির ভাগ সময় মানুষের কল্যাণে তিনি লিখতেন। হঠাৎ বাবার প্রয়াণে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছি।

শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, উদার ও সাদামনের মানুষ ছিলেন সৈয়দ আবুল মকসুদ। মানুষের ভালো কাজের আলোচনা করতেন ও অন্যায় কাজের সমালোচনা করতেন। মোট কথা তিনি সাদাকে সাদা বলতেন, আর কালোকে কালো। মুখে যা বলতেন অন্তরে তা লালন করতেন। নীতি ও আদর্শের ওপর সারা জীবন তিনি অবিচল ছিলেন।

এরপর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয় সৈয়দ আবুল মকসুদের মরদেহ। সেখানে আওয়ামী লীগের পক্ষে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান ও আওয়ামী লীগ নেতা অসীম কুমার উকিল। আরও শ্রদ্ধা জানায় আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ, বাসদ. জাসদ, ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন, বাংলা একাডেমি, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাম গণতান্ত্রিক জোট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, ভাসানী অনুসারী পরিষদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আদিবাসী ফোরামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে সাংবাদিকতা করেছেন সৈয়দ আবুল মকসুদ। তার বস্তুনিষ্ঠ লেখা বর্তমান রাজনীতিতে খুবই প্রভাব বিস্তার করত। তার লেখাগুলো আমাদের রাজনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার লেখার মধ্য দিয়ে সমালোচনা করেছেন, আবার ভালো দিকগুলোকে প্রশংসা করেছেন। 

শহীদ মিনারের ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে। সেখানে তৃতীয় ও শেষ জানাজা শেষে তাকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

১৯৪৬ সালের ২৩ অক্টোবর মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার এলাচিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ আবুল মকসুদ। ১৯৬৪ সালে সাপ্তাহিক নবযুগ পত্রিকায় সাংবাদিকতার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। পরে সাপ্তাহিক জনতায় কাজ করেন কিছুদিন। স্বাধীনতার পর তিনি সরকারি বার্তা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় যোগ দেন। ২০০৮ সালের ২ মার্চ বার্তা সংস্থার চাকরি ছেড়ে দেন। চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন তিনি। আমৃত্যু সত্যাগ্রহী সৈয়দ আবুল মকসুদ মৃত্যুর দিন মঙ্গলবার সকালেও ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ধানমন্ডির বাসা থেকে ভার্চুয়ালি অংশ নেন। জনপ্রিয় এই কলামিস্ট তার গবেষণাধর্মী প্রবন্ধের জন্য সুপরিচিত ছিলেন।

সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৫ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৪০টির মতো। তিনি বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনী নিয়ে গবেষণাধর্মী বই লিখেছেন। প্রবন্ধ ও কলামের পাশাপাশি তিনি বেশ কিছু ভ্রমণ কাহিনিও লিখেছেন। এর মধ্যে ‘এ জার্নাল অব জার্মানি’ পাঠক সমাদৃত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত