টাঙ্গাইলে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী-সন্তানদের আকুতি

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১:১৯ পিএম

২৫ মার্চ ১৯৭১। অসহযোগ আন্দোলন তখন চরমে। রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে ডিউটি ও বিশ্রামরত সব কনস্টেবলের একই আলোচনা। যেকোনো সময় বাঙালিদের ওপর আক্রমণ করতে পারে পাকিস্তানি সেনারা। অবশেষে তাদের চিন্তাভাবনাই বাস্তবে রূপ নিল। ওই দিন রাতেই পাকিস্তানি সেনারা কোনো রকম ঘোষণা ছাড়াই রাজারবাগ, পিলখানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আক্রমণ করে। কনস্টেবল জয়নাল আবেদীন সেদিন রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে কর্মরত ছিলেন। জয়নালের বিপি নম্বর ৯৫১ ছিল বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম।

ওই সময়কার প্রতিবেশী ও বর্তমানে কানাডাপ্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা আবদুল করিম মিঞা জানান, সেদিন দেশপ্রেমী জয়নাল সঙ্গীদের নিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামেন। কিন্তু পাকিস্তানি সেনাদের ভারী অস্ত্রের মুখে সাধারণ রাইফেল দিয়ে প্রতিরোধ দীর্ঘায়িত করতে পারেননি তারা। সেদিন যুদ্ধে সহযোদ্ধা অনেক কনস্টেবল শহীদ হলেও জয়নাল প্রাণে বেঁচে যান।  জয়নালের স্বজনরা জানান, পরিবারের অনুরোধে ১৯৭২ সালের কোনো একসময় নিজ কর্মস্থল রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে যান জয়নাল। কিন্তু সেখান থেকে তাকে বলা হয় যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন তিনি। এ জন্য তার সব ফাইল ক্লোজ (বন্ধ) করে দেওয়া হয়েছে। পুনরায় চাকরিতে যোগ দেওয়া সম্ভব নয়। এরপর অনাহার-অর্ধাহারে আর চিকিৎসার অভাবে ২০০০ সালের ২০ অক্টোবর মারা যান এই মুক্তিযোদ্ধা।

জয়নালের স্ত্রী সুফিয়া বেগম বলেন, ‘জীবিত অবস্থায় স্বামী অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারেননি। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনেক কিছুই করছেন।’ প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার দাবি, দেশের জন্য প্রথম অস্ত্র হাতে যুদ্ধে যাওয়া জয়নালকে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তার আত্মার শান্তি দেওয়া হোক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত