‘আমাকে গ্রেপ্তার করো, বিনা জামিনে, বিনা বিচারে হত্যা করো’

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৭:৪২ পিএম

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দী অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ফেস্টুন হাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। ‘মুশতাক আহমেদ মরল কেন সরকার জবাব দাও’, ‘আমাকে গ্রেপ্তার করো! বিনা জামিনে বিনা বিচারে হত্যা করো!’, ‘রাষ্ট্রীয় হত্যাযোগ্য নিপীড়ন রুখে দাঁড়াও জনগণ’, ‘মানবতাবিরোধী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করো’, ‘ডিজিটাল আইনে বন্দীদের অবিলম্বে মুক্তি দাও’ ইত্যাদি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তৌহিদুজ্জামান জুয়েল বলেন, ‘এমন এক স্বৈরাচারী ব্যবস্থা কায়েম করেছে যেখানে সব আওয়ামী ও ক্ষমতাবান ধনী-লুটেরা বিরোধী মতামতকে দমন করা হচ্ছে এবং ন্যূনতম মানবিক অধিকারকেও হরণ করা হচ্ছে। তারই ফলাফল লেখক মুশতাকের কারান্তরীণ মৃত্যু। জনগণকে বাঁচাতে এই বাংলাদেশকে আবার স্বাধীন করার আন্দোলন এখন সময়ের প্রয়োজন’।

লেখক মুশতাক আহমেদ (৫৩) বৃহস্পতিবার রাতে মারা যান। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে ছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, মুশতাক সন্ধ্যার দিকে কারাগারের ভেতর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে প্রথমে কারা হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

গত বছরের মে মাসে লেখক মুশতাক আহমেদ, কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য দিদারুল ইসলাম ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মিনহাজ মান্নানকে র‍্যাব গ্রেপ্তার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কথাবার্তা ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তারাসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে র‍্যাব। সেই মামলায় দুজন জামিনে মুক্তি পেলেও মুশতাক ও কিশোরের জামিন আবেদন ছয়বার নাকচ হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত