গাজীপুরে যৌতুকের টাকা না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূূকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ^শুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মহানগরীর রওশন সড়ক এলাকার পশ্চিম চান্দনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। গতকাল শুক্রবার লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়।
নিহত গৃহবধূর নাম জান্নাতুল (২৩)। তিনি সিরাজগঞ্জ সদরের শাহেদনগর এলাকার উজ্জ্বল ব্যাপারীর মেয়ে। তিনি স্বামী রাজিব আহমেদের সঙ্গে পশ্চিম চান্দনা এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থেকে দুজনই স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
নিহত গৃহবধূর চাচা তোফাজ্জল হোসেন মিলন জানান, আড়াই বছর আগে ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর এলাকার রহমত আলীর ছেলে রাজিব আহমেদের সঙ্গে জান্নাতুলের বিয়ে হয়। বর্তমানে জান্নাতুল দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিয়ের পর থেকে স্বামী রাজিব এবং শ^শুর-শাশুড়ি মিলে যৌতুকের জন্য নানাভাবে নির্যাতন করত। তাদের চাহিদামতো একবার ৩০ হাজার এবং পরেরবার ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। সম্প্রতি তারা আরও ১ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল। টাকা না দিতে পারায় জান্নাতুলের ওপর চালানো হতো নির্যাতন।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে যৌতুকের টাকার জন্য জান্নাতুলকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার পেটে লাথি দিলে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে তাকে রশি দিয়ে গলায় বেঁধে ঘরের ধরনার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। প্রতিবেশীরা টের পেয়ে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ জান্নাতুলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। জান্নাতুলের স্বামী রাজিব আহমেদ জানান, সাংসারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হলে সে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে। যৌতুকের জন্য কোনো সময় তাকে নির্যাতন করা হতো না।
এ ব্যাপারে বাসন থানার এসআই ইব্রাহিম খলিল জানান, ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
