পঞ্চম শ্রেণি : বাংলা

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২১, ১১:১৩ পিএম

বিষয় : রচনা লিখন

স্বাধীনতা দিবস

ভূমিকা : ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। আমাদের জাতীয় দিবস হিসেবে যতগুলো দিন রয়েছে, স্বাধীনতা দিবস তার মধ্যে অন্যতম। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালির ওপর প্রায় দুই যুগ যে নিপীড়ন ও শোষণের ত্রাস সৃষ্টি করেছিল, তা থেকে মুক্তি পাওয়ার বাঙালি এক অপ্রতিরোধ্য সংগ্রাম শুরু করেছিল এই দিনে।

প্রেক্ষাপট : ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা হঠাৎ সৃষ্ট কোনো আবেগময় ঘোষণা নয়। এর পেছনে রয়েছে বাঙালির আত্মত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রামের সুদীর্ঘ রক্তাক্ত ইতিহাস। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৫৪-এর সাধারণ নির্বাচন, ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬-এর ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৭১-এর অসহযোগ আন্দোলন পেরিয়ে এসেছিল ২৬ মার্চ। এই দীর্ঘ সংগ্রামের ফলে বাঙালির মনে উপ্ত হয়েছিল স্বাধীনতার বীজ। সেই প্রত্যাশা পরিণত হয়েছিল মহান স্বাধীনতা লাভের আকাক্সক্ষায়। বাঙালির এই স্বাধীনতার আকাক্সক্ষাকে চিরতরে মিটিয়ে দেওয়ার অভিলাষে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ২৫ মার্চ রাতে নিরীহ ঘুমন্ত বাঙালির ওপর লেলিয়ে দেয় সেনাবাহিনী। তারা শুরু করে নির্বিচারে গণহত্যা। নিজ দেশের জনগণকে রক্ষায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তার ডাকে সাড়া দিয়ে সমস্ত জাতি ১৯৭১ সালে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্র সংগ্রামে। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতা ঘোষিত হয়েছিল বলে স্বাধীন বাংলাদেশ ২৬ মার্চকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করে।

দিবসটির গুরুত্ব : পাকিস্তান আমলে বাঙালি ছিল শোষিত, অত্যাচারিত এবং সব ক্ষেত্রে উপেক্ষিত। এ দিনটি দেশবাসীর বহুকাল লালিত স্বপ্ন স্বাধীনতা লাভের প্রত্যাশাকে বাস্তব রূপদান করে। নিপীড়িত, বঞ্চিত ও শোষিত মানবের মুক্তির স্বপ্নসাধ পূরণের মহিমায় অমর এ দিন। প্রতি বছর এ দিনটি আমরা পালন করি আনন্দ, শ্রদ্ধা, ভক্তি ও গভীর ভালোবাসায়। আমাদের জাতীয় জীবনে এ দিবসটির গুরুত্ব অপরিসীম।

উদযাপন : বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ মহাসমারোহে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে। দেশের সব স্থানে শোভা পায় লাল-সবুজ পতাকা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সব শ্রেণির মানুষ এ আনন্দ-আয়োজনে মেতে ওঠে। সরকারিভাবে ঢাকার জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজ প্রদর্শিত হয়। বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দোয়া ও বীর শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।

উপসংহার : ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। তাই এ দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত স্বাধীনতার চেতনা ও মূল্যবোধকে যেকোনো মূল্যে রক্ষার। এই দিনে আমাদের উচিত  সব অশুভ চক্রান্ত থেকে দেশের সার্বভৌম রক্ষা করার শপথ নেওয়া। এজন্য গভীর দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের মহিমায় নিজেদের উজ্জীবিত করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত