সাবেক এমপির ভাতিজার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অস্ত্র তৈরির কারখানা!

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২১, ০৭:২১ পিএম

পাবনার বেড়া উপজেলার নাটিয়াবাড়ি এলাকায় সাবেক এমপির ভাতিজার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের গ্রাউন্ড ফ্লোরে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

সোমবার বিকেলে এক অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও বিপুল ভেজাল ওষুধসহ দু’জনকে আটক করা হয়। আটকরা পাবনা-২ আসনের সাবেক এমপি আজিজুল হক আরজুর অনুসারী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় রাজনীতি ও পার্শ্ববর্তী নগরবাড়ী ঘাটে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে আরজুর অনুসারী সন্ত্রাসীদের সরবরাহে এ সব অস্ত্র তৈরি হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এমপির ভাতিজা ও বাড়ির মালিক আবু বকর পলাতক রয়েছেন।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, আমিনপুর থানায় নাটিয়াবাড়ী এলাকায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের গ্রাউন্ড ফ্লোরে পেশাদার অস্ত্র ব্যবসায়ীরা অস্ত্র তৈরির কারখানা স্থাপন করেছে, এমন গোপন সংবাদে সেখানে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। এ সময় তাদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত দু’টি ওয়ান শুটার গান, একটি রিভলবার, অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও বিপুল অনুমোদনহীন ভেজাল ওষুধ উদ্ধার করা হয়।

আটকরা হলো বেড়া উপজেলার রাকসা ভারেঙ্গা এলাকার মৃত মোকসেদ আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ আল মনসুর ওরফে মিঠু (৪৩) ও আমিনপুর থানার রাজনারায়ণপুর গ্রামের হানিফ কাজীর ছেলে আব্দুল্লাহ আল সিয়াম ( ১৯)।

নাটিয়াবাড়ি এলাকার আওয়ামী লীগকর্মী শাহ আলম ব্যাপারী জানান, সাবেক এমপি আরজু খন্দকার দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জামায়াত নেতা ইমান আলী মোল্লাকে নিয়ে নগরবাড়ী ঘাটের দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগ নেতারাও বিব্রত। আরজু সাহেব তার ভাতিজা আবু বকর, আব্দুল মজিদ, ভাতিজার ছেলে মেহেদী হাসান শোভনকে দিয়ে পুরো এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন। বিষয়টি এলাকায় ওপেন সিক্রেট হলেও ভয়ে কেউ বাধা দেওয়ার সাহস করে না।

তবে আধিপত্য বিস্তার ও সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাবনা-২ আসনের সাবেক এমপি খন্দকার আজিজুল হক আরজু।

তিনি বলেন, এলাকায় আমার কোনো আত্মীয়-স্বজন নেই। আমার নিজেরই কোনো আশ্রয়স্থল নেই, সেখানে সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমি কখনো চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না, রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

ঘটনার পর অভিযানস্থল পরিদর্শন করেন পাবনার পুলিশ সুপার মুহিবুল ইসলাম খান ।

তিনি জানান, আটকরা পেশাদার অস্ত্র ব্যবসায়ী। তারা বিভিন্ন সময় স্থানীয় সন্ত্রাসীদের চাহিদা অনুযায়ী অস্ত্র সরবরাহের পাশাপাশি নিজেরাও ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে কাজ করে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা কারা সে বিষয়ে জানতে অনুসন্ধান করছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার জানান, আটকদের বিরুদ্ধে আমিনপুর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মঙ্গলবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত