স্কুলের কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ শিক্ষক ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২১, ১১:০২ পিএম

কুষ্টিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান (৫৭) ও তার স্ত্রী বিলকিস রহমানের (৪৭) বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুদক।

দেড় শ বছর আগে শহরের প্রাণকেন্দ্রে ৩ একর জমির ওপর স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া হাইস্কুলের ভূ-সম্পত্তিসহ অবকাঠামো আত্মসাৎ এবং অজ্ঞাত কোটি টাকার সম্পদ আহরণের অভিযোগ এই দম্পতির বিরুদ্ধে।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) তহিদুল ইসলামের আদালতে মামলা দুটি আমলে নেয়া হয়।

এর আগে দুদক কুষ্টিয়া জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ জাকারিয়া স্বাক্ষরিত এজাহারটি আদালতে দাখিল করেন দুদকের কৌঁসুলি এ্যাড. আল-মুজাহিদ মিঠু।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ৮ অক্টোবর হতে ২০২০ সালের ১৮ আগস্ট সময়কাল পর্যন্ত কুষ্টিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমানের স্ত্রী শহরের ১৭/৩, জাহের আলী সড়ক, পেয়ারাতলার বাসিন্দা বিলকিস রহমান (৪৭) জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৫৫ লাখ ৩৩ হাজার, ৫শ ৬৪টাকা আহরণ করেছেন।

একই ভাবে সদর উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত ময়েন উদ্দিন আহমেদের ছেলে মো. খলিলুর রহমান ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হতে ২০২০ সালের ১৮ আগস্ট সময়কালের মধ্যে ৫২ লাখ, ৫৫হাজার, ১শ ৬৯ টাকা আয়ের বৈধ কোনো উৎস দেখাতে পারেননি। তদন্তকালে সদুত্তর দিতে না পারায় স্ত্রী বিলকিস রহমানের মতোই অভিন্ন ধারার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে পৃথক আরো একটি মামলা করেছে দুদক।

এদিকে কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্রের ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতকোটি টাকার সম্পদ প্রকাশ্যে দিবালোকে প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে লুটপাট ও আত্মসাতের ঘটনায় এত দিন মুখ খুলতে পারেনি শহরবাসী। দুদকের এই মামলা দায়েরের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে শহরবাসী আনন্দে মিষ্টিমুখ করার ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডা. এর পরিচালক এসএম কাদরী শাকিল বলেন, অনেক দেরিতে হলেও দুদকের এই পদক্ষেপে আমি খুশি। তবে দুদক যে কেবল কোটি টাকার সম্পত্তির হিসেব দিচ্ছেন, সেই পরিমাণটাও আরো নিবিড় ভাবে প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠা দরকার। আমার মনে হয় এই পরিমাণটা আরো অধিক হওয়ার কথা। যাই হোক সঠিক তদন্ত ও দৃষ্টান্ত মূলক বিচারসহ বিদ্যালয়টিকে রক্ষার দাবি করছি।

কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি চিকিৎসক নেতা ডা. আমিনুল হক রতন তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, এত দিন ধরে আমাদের চোখের সামনে তিল তিল করে বিদ্যালয়টির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছিল। আমরা অনেকেই দেখেছি, কিন্তু কার্যত কেউই মুখ খুলে কিছু বলতে পারিনি। আমরা শহরবাসী জানতে চাই প্রকৃত অর্থে প্রতিষ্ঠানটির কি পরিমান সম্পদ লুটপাট হয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান।

দুদকের মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চেয়ে কুষ্টিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমানের মুঠোফোনে কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. একে এম মুনির বলেন, দুদকের মামলার বিষয়ে আমি শুনেছি। এটা প্রধান শিক্ষকের ব্যক্তিগত বিষয়ে সাথে সম্পৃক্ত। স্কুলের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তা ছাড়া দুদক যে মামলা করেছে তার মেরিট দুর্বল। এ মামলায় শেষ পর্যন্ত কিছু হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত