ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী নোভা প্রথমবারের মতো সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে তিনি কথা বললেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত সাইদ খান।
কেমন আছেন? সময় কেমন কাটছে?
ভালো আছি। আমার সময় খুবই ভালো কাটছে। চাকরি করছি। এখন সিনেমাতেও কাজ করতে যাচ্ছি। সব মিলিয়ে খুবই ভালো আছি। কোভিডের পর থেকে তো সব খুলে দিয়েছে, ফলে আগের চেয়ে এখন ব্যস্ততাও বেড়েছে।
প্রথমবার সিনেমায় কাজ করতে যাচ্ছেন। অনুভূতি কেমন?
প্রথমবারের মতো সিনেমায় কাজ করতে যাচ্ছি। এই সিনেমার নাম ‘মৃধা ভার্সেস মৃধা’। ছবিটি পরিচালনা করছেন রনি ভৌমিক। রচনা ও চিত্রনাট্য করছেন রায়হান খান।
নতুন সিনেমায় আপনাকে কোন চরিত্রে দেখা যাবে?
আমাকে এই ছবিতে ঐশী নামের একটি মেয়ের চরিত্রে দেখা যাবে। সিনেমায় নিজের চরিত্র নিয়ে এর বেশি কিছু বলতে চাই না। কারণ বলে দিলে চমক থাকবে না। তবে ছবিটি দেখার পর প্রতিটি ক্যারেক্টারের সঙ্গেই সাধারণ মানুষ রিলেট করতে পারবে। তারা ভাববে এই চরিত্রটি তো আমার মতোই বা পাশের বাড়ির মানুষটার মতোই। আর সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে সামাজিক প্রেক্ষাপটের গল্প নিয়ে। যেখানে উঠে আসবে পরিবারের সম্প্রীতির সৌন্দর্য, সম্পর্কের অবক্ষয়সহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়। মূলত এই ছবিতে একটা ইমোশনাল জার্নি দেখানো হবে।
আগের মতো নিয়মিত কাজ না করার কারণ কী?
আগে প্রচুর কাজ করতাম। কিন্তু নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের কারণেই এখন আগের মতো নিয়মিত কাজ করা হচ্ছে না। এখন সিলেক্টিভ কিছু কাজ করার চেষ্টা করছি। আমার গল্প যেটা ভালো লাগে সেটাই করি। এখন প্যাশনের জায়গা থেকে কাজটা করছি।

আপনার অনিয়মিত কাজের পেছনে নাটকের সিন্ডিকেট দায়ী কিনা?
আমার অনিয়মিত কাজের পেছনে নাটকের সিন্ডিকেট বা অন্য কোনো কিছু দায়ী নয়। আমি সিন্ডিকেট বিষয়ে বলতেও চাই না। আমি মূলত ভালো স্ক্রিপ্ট পেলেই এখন কাজ করছি। আর সবচেয়ে বড় কথা, আগে আমি অভিনয়টাকেই কাজ হিসেবে নিয়েছিলাম ফলে তখন সব ধরনের কাজ করতাম। এখন আমি যেহেতু চাকরি করি তাই বেঁচে থাকার মতো পর্যাপ্ত অর্থ আমার আছে। ফলে পছন্দসই কাজটাই করতে চাচ্ছি। এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ফল।
আগের ইন্ডাস্ট্রি আর বর্তমান ইন্ডাস্ট্রির তুলনামূলক মূল্যায়ন…
আমি ১৬ বছর আগে যখন কাজ শুরু করেছিলাম তখন ছিল স্বর্ণ যুগ। এখনো ভালো ভালো কাজ হচ্ছে। আগে আমরা অভিজ্ঞ সিনিয়রদের সঙ্গে কাজ করছি যারা ধরে ধরে কাজ করতো। অনেক গুণীদের সঙ্গে কাজ করেছি, অনেকেই এখন বেঁচে নেই। আমি সৌভাগ্যবান যে ওনাদের মতো গুণীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। মূলত একটা সময়ে নাটকের বাজেট কমে যাওয়ায় নাটকের মানে সমঝোতা করতে হয়েছে নির্মাতাদের। এখন আবার ওটিটি বা ওয়েবে বড় বাজেটের কাজও হচ্ছে। আমি মনে করি নাটকের ইন্ডাস্ট্রি আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

সাবেক স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক কেমন?
‘মৃধা ভার্সেস মৃধা’ নামের এই সিনেমার রচনা ও চিত্রনাট্য করেছেন রায়হান খান। রায়হান খানের সঙ্গে আমার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে ঠিক, কিন্তু উনি গুণী নির্মাতা- লেখক। কাজের জায়গা থেকে আমি তাকে প্রচুর শ্রদ্ধা করি। বিচ্ছেদের ফলে সম্পর্কে একটা রূপান্তর ঘটেছে, কিন্তু সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়নি। কারণ বিয়ে বিচ্ছেদ হলেও দুটো পরিবারের ভেতর সব সম্পর্ক শেষ হয়ে যায় না।
একাকী জীবন কেমন কাটছে?
একাকী জীবনে আমি এখন অনেক ভালো আছি, এই জীবনটা উপভোগ করছি। চাকরি করছি, নিজের মতো একটা জীবন কাটাচ্ছি। এভাবেই খুব ভালো আছি। ফলে এই মুহূর্তে দ্বিতীয় বিয়ে করার কথা ভাবছি না।
