বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নিয়ন্ত্রণ আইনে আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত অপরাধ আমলে নিতে পারবে আদালত। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার নির্দেশনা অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধ আমলযোগ্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই নির্দেশনা বলবৎ থাকবে। ফলে বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে সংগঠিত অনিয়ম কমে আসবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। গত ১০ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনটি গতকাল সোমবার সার্কুলারপত্র আকারে জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতদিন প্রজ্ঞাপনের অভাবে এ ধরনের অপরাধের ঘটনায় কোনো মামলা করতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এ সুযোগে পার পেয়ে যায় বৈদেশিক বাণিজ্যনির্ভর অর্থপাচারকারীরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়েছে, কিন্তু মূল্য দেশে আসেনি। আবার আমদানির জন্য টাকা পাঠানো হয়েছে, কিন্তু পণ্য দেশে আসেনি। ব্যাংকের মাধ্যমে সংঘটিত বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে এ রকম প্রায় ১০ হাজার ঘটনায় অর্থপাচারের আশঙ্কা করলেও ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। জানা গেছে, বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৪৭-এ এ ধরনের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের বিচারিক ক্ষমতা থাকলেও মামলা আমলে নেওয়ার ক্ষেত্রে সময়ে সময়ে শাস্তিমূলক কর্মকাণ্ডের ঘোষণা দিয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল এ-সংক্রান্ত কোনো মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগের অনুরোধে ২০১৯ সালের শেষ দিকে প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৪৭-এর ২৩ ধারার ২ নম্বর উপধারার ক্ষমতাবলে সরকার ঘোষণা করছে যে এই আইনের ২৩ ধারার ১ নম্বর উপধারায় বর্ণিত শাস্তিযোগ্য অপরাধগুলো প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আমলযোগ্য হবে।’
