প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুসহ দলের চারজনের নামে রাজশাহীতে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ (আমলি আদালত বোয়ালিয়া) এ মামলাটি দায়ের করা হয়।
সাবেক সিটি মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন।
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোসাব্বিরুল ইসলাম মামলার বাদী।
তার আইনজীবী হিসেবে মামলাটি আদালতে দাখিল করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসলাম সরকার। আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছেন।
আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম মামলার বাদীর জবানবন্দিও গ্রহণ করেছেন।
মামলা দায়ের করার সময় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারসহ দলীয় নেতাকর্মীরা আদালতে যান।
মামলায় বলা হয়, গত ২ মার্চ রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনের সঞ্চালনায় বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বিএনপির এই চার নেতা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার উৎখাতের অসৎ উদ্দেশ্যে নেতাকর্মী, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে মিজানুর রহমান মিনু প্রকাশ্যে হুমকি দেন।
মামলায় আরও বলা হয়, মিনুর এই ঘোষণার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উগ্র ভাব ছড়িয়ে পড়ে। দলটির কিছু নেতাকর্মী সমাবেশের এই বক্তব্য ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচার করেন। সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ অন্যরাও একইভাবে বক্তব্য দিয়ে ঘৃণা-বিদ্বেষ সৃষ্টি করেন এবং বেআইনিভাবে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার উৎখাতের হুমকি দেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাসহ নির্বাচিত সরকার উৎখাতের প্রকাশ্য ঘোষণা ও হুমকি দিয়ে তারা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ করেছেন। যা বাংলাদেশের নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি বিপজ্জনক ও হুমকিস্বরূপ। তাই এই মামলা করা হলো।
উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠের পাশে একটি কমিউনিটি সেন্টারের পাশে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে মিজানুর রহমান মিনু বক্তব্য দেয়ার পরদিনই প্রতিবাদ জানিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগ মিনুকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে বলে। ক্ষমা না চাইলে মামলা করার ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগ।
আল্টিমেটামের সময় শেষ হওয়ার পর ৭ মার্চ মিজানুর রহমান মিনু গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠিয়ে নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। মিনুর পক্ষে রাজশাহী নগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হক ডিকেন ই-মেইলে বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠান।
তবে ক্ষমা না চাওয়ায় এবং নগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদককে দিয়ে বিবৃতি পাঠিয়ে দুঃখ প্রকাশ করায় সন্তুষ্ট হয়নি মহানগর আওয়ামী লীগ।
এর প্রেক্ষিতে গত ৯ মার্চ মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন করা হয়।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদনটি জমা দেয়া হয়। জেলা প্রশাসক মামলার আবেদনটি অনুমতির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান।
মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়ায় আজ এটি মামলা হিসেবে আদালতে দাখিল করা হয়।
