বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে নাইজেরিয়ান শিল্পী প্রিন্সেস বোলা এজেজি কিংবদন্তি গীতিকার হাসান মতিউর রহমানের ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই’ গানটি গেয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
নাইজেরিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার বেলা এজেজি গানটির মূল সুর ঠিক রেখে গাওয়ার চেষ্টা করেন ।
যেভাবে লেখা হয়েছিল গানটি: ১৯৯০ সালে ফ্রান্সে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে যাওয়ার কথা বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আয়োজকেরা পরিকল্পনা করলেন অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা নতুন একটি গান বাজাবেন। তার আগে শেখ হাসিনার অনুমতি নেয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী তখন কর্মীদের বলেন, ‘যার গান রাস্তাঘাটে, চায়ের দোকানে সব জায়গায় বাজে, তাকে দিয়ে গান লেখাও।’
শেখ হাসিনার সঙ্গে এই আলাপের সময় যারা উপস্থিত ছিলেন, তাদের মধ্যে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রর শিল্পী মলয় কুমার গাঙ্গুলি শুধু হাসান মতিউর রহমানকে চিনতেন।
মলয় গাঙ্গুলি সেদিন বিকেলে মতিউর রহমানের কাছে যান। বলেন, ‘তিন দিনের ভেতর আমরা নেত্রীর সঙ্গে রওনা হব। রেকর্ডিং হবে না। গানটা আমি লাইভ গাইব। আজ রাতেই লেখা শুরু করেন।’
এমন প্রস্তাব পেয়ে মতিউর রহমান যেমন ভয় পান, তেমনি শিহরিতও হতে থাকেন।
মতিউর রহমান বিভিন্ন সময় এভাবে সেদিনের বর্ণনা দিয়েছেন, ‘আমার ভেতরে তখন হয়তো অন্য কেউ কাজ করছিল। রাতে গান লিখতে বসি। কিন্তু লিখতেই পারছি না। একসময় শুনি আজান পড়ে গেছে। ততক্ষণে এক লাইনও লেখা হয়নি!’
যাতে আপনার ভয়, তার ভেতরই লুকিয়ে থাকে মুক্তির পথ। সেদিন রাতে মতিউর রহমান এই সত্য বুঝতে পারেন। ‘ভোর হয়ে যাচ্ছে…’ এই ভয়ের ভাবনা থেকেই পান ‘মুক্তি’। লিখে ফেলেন, ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত, বঙ্গবন্ধু মরে নাই…।’
মলয় গাঙ্গুলি ফ্রান্সের অনুষ্ঠানে নিজের গলায় গানটি গান। শেখ হাসিনা তখন কিছু বলেননি। বিমানে ফেরার সময় গাঙ্গুলিকে বলেন, ‘এটা ক্যাসেট করে ছাড়তে পারেন। মানুষ পছন্দ করবে।‘
সেই থেকে গানটি বাংলার মানুষ আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে শুনেছে। মতিউর রহমান এমনই। তার অধিকাংশ গানে গোটা দেশ দুলেছে। বিভোর হয়েছে। এক সঙ্গে ভুলেছে দুঃখ।
গানটির জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সম্মান হিসেবে তাকে একটি প্লট উপহার দেয়া হয়েছিল।
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া কাঁপিয়ে দেয়া তার আরেকটি গান, ‘কোনো একদিন আমায় তুমি খুঁজবে…।’
মতিউর রহমান অনেক শিল্পীকে মহাতারকা বানিয়েছেন। তার মধ্যে অন্যতম মুজিব পরদেশি, দিলরুবা খান।
‘আমি বন্দী কারাগারে, ‘কলমে নাই কালি’ গানেরও স্রষ্টা তিনি। পরদেশি নামটা তারই দেয়।
