অতীত বদলে দেওয়ার অপেক্ষায়

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২১, ১২:৫৭ এএম

‘যা কোনো বাংলাদেশি দল এখানে করেনি আগে তা করে দেখাতে চাই’– নিউজিল্যান্ডের ডানেডিনে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এই বার্তাই দিলেন রাসেল ডমিঙ্গো। বাংলাদেশ হেড কোচ আত্মবিশ্বাসী তার দল নিউজিল্যান্ডে সাফল্যের শূন্য খাতায় প্রথম জয়ের দাগ কাটবে। এ জন্য তামিম ইকবালদের যথাসম্ভব প্রস্তুত করছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হিসেবে নিউজিল্যান্ডে আসার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন। আবার দৃষ্টি রাখছেন নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে এবং পিচে। সবচেয়ে বড় কথা ডমিঙ্গো স্বাগতিকদের চমকে দিতে চান বাংলাদেশ দলের তরুণ পেসারদের সামনে রেখে।

কুইন্সটাউনে প্রস্তুতি ক্যাম্প শেষে প্রথম ওয়ানডের ভেন্যু ডানেডিনে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। একদিন আগে পৌঁছে গতকাল থেকেই অনুশীলন শুরু হয়েছে সেখানে। এমনিতেই এবার সিরিজের আগে সবচেয়ে বেশি সময় নিউজিল্যান্ডে থাকা হয়েছে। পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দিক থেকে ক্রিকেটাররা এগিয়ে আছেন বেশ। এই উদ্দেশ্য থেকেই একদিন আগেই ডানেডিনে যাওয়া। কিন্তু আসল কাজটা তো করতে হবে মাঠে। হেড কোচ ডমিঙ্গো পুরো বিশ্বাস রাখছেন সেই কাজ তার দল করবে, ‘এর আগে বাংলাদেশি কোনো দল এখানে যা করতে পারেনি এমন কিছু আমাদের করে দেখানোর দারুণ সুযোগ এটি। আমরা এটা নিয়ে খুব উচ্ছ্বসিত।’ ২০০১, ২০০৭, ২০১০, ২০১৭ এবং ২০১৯; এ নিয়ে পাঁচবার নিউজিল্যান্ড সফর করলেও কোনোবারই কোনো ফরম্যাটে জিততে পারেনি বাংলাদেশ।

সিরিজে ভালো করার জন্য ডমিঙ্গো নিউজিল্যান্ডের অজানা অস্ত্রেই ভরসা রাখছেন। বাংলাদেশের তরুণ পেসারদের বিপক্ষে কিউইরা এখনো খেলেনি। গত সিরিজে উইন্ডিজের বিপক্ষে হাসান মাহমুদের সাফল্য দারুণ। এর আগে শরিফুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টিতে ভালো করেছেন। আসন্ন সিরিজে এ দুজন ভালো করবেন সেই বিশ্বাস কোচের, ‘আমাদের বেশ কজন তরুণ পেসার উঠে এসেছে, নিউজিল্যান্ড হয়ত ওদের আগে সেভাবে দেখেনি। আমার ধারণা, তারা হয়তো এই পেসারদের দেখার আশাও করছে না। কিন্তু ওরা দারুণ সম্ভাবনাময়। হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদরা দারুণ বোলিং করছে। যে ফাস্ট বোলাররা এখন উঠে আসছে তাদের নিয়ে আমি এ সিরিজে বেশ রোমাঞ্চিত।’ নিউজিল্যান্ডে এই প্রথম সবচেয়ে বড় পেস অ্যাটাক নিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ২০ জনের দলে ৭ জনই পেসার। অভিজ্ঞ রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, আল আমিন হোসেনের সঙ্গে তরুণ সাইফউদ্দিন, হাসান মাহমুদ ও শরিফুল আছেন।

২০১৪ ও ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হিসেবে নিউজিল্যান্ড সফর করেছেন ডমিঙ্গো। দুবারই সিরিজ জিতেছেন। কিন্তু জানেন নিউজিল্যান্ডে খেলাটা কত কঠিন। জানেন নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটের গভীরতা। ডমিঙ্গো বলেন, ‘উইলিয়ামসন ও টেইলরের না থাকা আমাদের জন্য কিছু উৎসাহের ব্যাপার। বিশেষ করে প্রথম ম্যাচে। আমাদের তরুণ খেলোয়াড়রা ওদের টেলিভিশনে দেখেছে। তরুণদের কাছে তারা দুজনই বিস্ময়। আমার মনে হয় উইলিয়ামসন ও টেইলরের না থাকাটা তরুণদের জন্য হতাশার। এটা তাদের জন্য চ্যালেঞ্জের হতো, কারণ ওরা সেরা খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলতে চায়। ওই দুজন না থাকলেও তাদের জায়গায় যারা আসবে তারা পরীক্ষিত। আমি নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটের খোঁজ রাখছি কিছুদিন ধরে। কিউই তরুণরা কতটা পরীক্ষিত হয়ে আসে তা আমি জানি। ওরাও জাতীয় দলে ভালো করতে চাইবে।’

তারুণ্যের আধিক্যে

খুশি গ্যারি স্টিড

এই মৌসুমে টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট মিলিয়ে ২৬ নতুন ক্রিকেটার খেলিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ঘরোয়া ক্রিকেট ও নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলে দারুণ পারফরম করেই তারা জাতীয় দলের পাইপলাইনে। আর এই তরুণদের উঠে আসায় খুব খুশি নিউজিল্যান্ড কোচ গ্যারি স্টিড। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য ৩০ ক্রিকেটারের দারুণ প্রতিযোগিতা চলছে বলে জানান তিনি। সেই ক্রিকেটারদের কয়েকজন বাংলাদেশের বিপক্ষে সুযোগ পেয়েছেন। আগামীকালের ম্যাচেই অভিষেক হতে পারে তিনজনের। উইলিয়ামসন ও টেইলরের জায়গায় ডেভন কনওয়ে ও উইল ইয়ংয়ের খেলা নিশ্চিত। সঙ্গে অলরাউন্ডার কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম না থাকায় ড্যারেল মিচেলেরও অভিষেক হতে পারে। দল নির্বাচনে এসে তারুণ্যের আধিক্য অন্যরকম ভালোলাগা জোগাচ্ছে স্টিডকে, ‘নির্বাচকের টেবিলে বসে একসঙ্গে অনেক তরুণের নাম দেখা সবসময়ই রোমাঞ্চকর। ৩০ যোগ্য ক্রিকেটারের মধ্য থেকে ১৫ জনের নাম বাছাই করা কঠিন। তবে এই ক্রিকেটারদের উঠে আসা সম্ভব হয়েছে দারুণ ঘরোয়া ক্রিকেট ও ‘এ’ দলের প্রোগ্রামের কারণে। এই খেলাগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য সেরা ক্রিকেটারদের তৈরি করছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ডেভন ও উইল নিশ্চিত খেলছে। একাদশের প্রয়োজন অনুসারে মিচেলকেও আমরা ব্যবহার করতে পারি। তবে এই তিনজন ছাড়া সেরা একাদশে খেলার মতো অনেকেই আছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত