ইবির কোষাধ্যক্ষ পদপ্রত্যাশীদের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২১, ১১:৪২ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কোষাধ্যক্ষ পদটি সাত মাস ধরে শূন্য। গত বছরের ২১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যতম সর্বোচ্চ এই পদের মেয়াদকাল শেষ হয়। গুরুত্বপূর্ণ এ পদটি শূন্য থাকায় অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিকসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজে নেমে এসেছে স্থবিরতা।

এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ শূন্য পদটিতে নিয়োগ পেতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন অধ্যাপকের নাম শোনা যাচ্ছে। আলোচিত অধ্যাপকদের মধ্যে রয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূইয়া, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী আখতার হোসেন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিন। এছাড়া ইবিসহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডজনখানেক অধ্যাপকও কোষাধ্যক্ষ পদটিতে নিয়োগ পেতে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে পদপ্রত্যাশী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারি, নারী কেলেঙ্কারি, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণসহ অনেকগুলো অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তারা সমালোচিতও হয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আপন ভাইকে নিয়োগ দিতে গিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) আজীবনের জন্য কালো তালিকাভুক্ত হয়েছেন ড. মাহবুবুল আরফিন। ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আপন ভাইয়ের বিষয়টি গোপন রেখে নির্বাচনী বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। এছাড়া নিয়োগ বোর্ডের প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন কাজে জড়িত ছিলেন বলে জানান জাককানইবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার। এছাড়াও এ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। ২০১৯ সালের জুনে এক নারীর সঙ্গে তার আপত্তিকর কথোপকথনের অডিও ফাঁস হয়।

অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিন বলেন, আমি ভিসি বরাবর লিখিত দিয়েছিলাম। এছাড়া কিছু বলতে চাচ্ছি না।

এদিকে কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের দৌড়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাজী আখতার হোসেনের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বেসিক ব্যাংকের সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় কাজী আখতার হোসেনের নাম আসে। সেই সময়ে পরিচালনা পর্ষদে থাকায় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে তার নামসহ সংবাদ প্রকাশিত হয়। অভিযোগের বিষয়ে কাজী আখতার হোসেন বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না।

কোষাধ্যক্ষ পদটিতে নিয়োগ পেতে তদবিরে থাকা অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করে কথা বলতেন। যা সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়েছে। ছাত্রাবস্থায় তিনি ছাত্রদলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির ২৪ বছর পর স্বার্থসিদ্ধির জন্য ২০২০ সালে তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদে যোগ দেন বলে ছাত্রলীগের কর্মীরা দাবি করেছেন।

এসব বিষয়ে অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূইয়া বলেন, বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করার প্রশ্নই আসে না। আমি ৯০ সাল থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালন করে আসছি।

এ ব্যাপারে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য ও ইবির ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুস সাত্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকার নিশ্চয়ই সৎ, যোগ্য, নৈতিকতা সম্পন্ন ও বিতর্কিত নয় এমন শিক্ষকদের মধ্য থেকে কাউকে নিয়োগ দেবেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, এটা সরকারের বিষয়। সরকার ভালো মনে করলে উপযুক্ত যে কাউকেই নিয়োগ দিতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত