এএসপি স্ত্রী-এসআই স্বামী, ভাইরাল ছবিতে প্রশংসার বন্যা

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২১, ০৬:০৩ পিএম

উজ্জ্বল-ঊর্মির সম্পর্কের শুরুটা ফেইসবুকে হাই-হ্যালো থেকে। এরপর দুজনের মধ্যে ভালো লাগা-ভালোবাসার জন্ম। অতঃপর মধুর পরিণয়। এখন তারা সুখী ও অনুকরণীয় পুলিশ দম্পতি।

উজ্জ্বল কুমিল্লায় হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আর ঊর্মি রেলওয়ের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে কর্মরত আছেন।

ঊর্মি দেব চট্টগ্রাম মহানগরের চাঁন্দগা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আর উজ্জ্বল ঘোষের বাড়ি ফরিদপুর সদর উপজেলায়। গত ২০২০ সালের ৩১ নভেম্বর পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। ঊর্মি ৩৬তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের একজন সদস্য। তার বাবা পেশায় আইনজীবী। দুই ভাই-বোনের মধ্যে ঊর্মিই বড়। তার ছোট ভাই ৩৭তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের একজন সদস্য।

আর উজ্জ্বলের বাবা একজন পরিবহন ব্যবসায়ী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে উজ্জ্বল দ্বিতীয়। এএসপি স্ত্রীর সঙ্গে ছবি তুলে ফেইসবুকে এসআই উজ্জ্বলের দেয়া পোস্ট রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গেছে। প্রশংসায় ভাসছেন এই এসআই-এএসপি দম্পতি।

গত ১৭ মার্চ ঊর্মি দেবের পাশে দাঁড়িয়ে তার কার্যালয়ে তোলা একটি ছবি ফেইসবুকে পোস্ট করে উজ্জ্বল ঘোষ লেখেন, পুলিশিং পেশার ব্যাপারে যাদের একটু ধারণা আছে, তারা বলতে পারবেন অবস্থানগত দিক থেকে আমার সহধর্মিণীর অবস্থান আমার থেকে কতটা ওপরে। না, আমাদের বিয়ের পর আমাদের কারও চাকরি হয়নি। আমার ও আমার সহধর্মিণীর অবস্থানের এই আকাশ-পাতাল পার্থক্যের তোয়াক্কা না করে এই দেবীতুল্য মানুষটা আমাকে আপন করে নিয়েছিলেন। যখন অহরহ পোস্ট দেখি মেয়েরা লোভী হয়, মেয়েরা বিসিএস স্বামী খুঁজে পেলে সব ছাড়তে পারে, মেয়েরা টাকা আর অবস্থান ছাড়া আর কিছু বোঝে না, আমার তখন খুব হাসি পায়। মায়ের জাত নিয়ে কী আমাদের চিন্তাধারা এটা ভেবে। একজন বিসিএস কর্মকর্তা যে কিনা আমার মতো একজন সামান্য মানুষকে এতটা আপন করে নিয়েছেন তিনিও তো একজন মেয়ে।

উজ্জ্বল ঘোষের এই পোস্ট ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে ভাইরাল হয়েছে। এরপর থেকে প্রশংসায় ভাসছেন উজ্জ্বল-ঊর্মি দম্পতি। তবে কেউ কেউ নেতিবাচক মন্তব্যও করছেন তাদের নিয়ে।

এ প্রসঙ্গে রেলওয়ের আখাউড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ঊর্মি দেব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০১৯ সালে পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণে গিয়ে উজ্জ্বলের সঙ্গে পরিচয় হয়। ওদের প্রশিক্ষণ তখন শেষ পর্যায়ে ছিল। সেখানে ফেইসবুকেই আমাদের পরিচয় হয়। এরপর মাঝে-মধ্যে কথা বলতাম। সেই থেকে আমাদের মধ্যে ভালো লাগা তৈরি হয়। আমরা যাওয়ার তিন-চার মাস পরেই ওরা প্রশিক্ষণ শেষ করে বের হয়ে যায়। এরপর মাঝে-মধ্যে কথাবার্তা হতো। আমরা দুজনের পরিবারে আমাদের বিষয়টি জানাই। পরে পারিবারিকভাবেই আমাদের বিয়ে হয়।

এএসপি ঊর্মি আরও বলেন, সব মা-বাবাই চায় মেয়ের চেয়ে ওপরে অথবা সমপর্যায়ের কারও সঙ্গে বিয়ে দিতে। আমার পরিবারও চাইতো অন্তত আমার সমপর্যায়ের কাউকে যেন বিয়ে করি। কিন্তু উজ্জ্বল পদে আমার জুনিয়র হলেও আমার পরিবার আমাকে বাধা দেয়নি। এটাতে আমার কোনো মহত্ত্ব দেখানোর ব্যাপার নেই। আমি মনে করি একজন ভালো মানুষ পাওয়া খুব জরুরি। আমি ক্যাডার সার্ভিসের অথবা অন্য বড় কাউকে চাইতে পারতাম। কিন্তু ভালো মানুষ তো সবখানে পাব না। আমি উজ্জ্বলের মতো একজন ভালো মানুষ পেয়েছি।

তবে ফেসবুকে ছবি ভাইরাল হওয়া নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে উজ্জ্বল ঘোষ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি একটা ছবি আপলোড করেছি- মানুষ এটাকে যার যার মতো করে ভাইরাল করছে। আমার এই জনপ্রিয়তা দরকার নেই। আমার সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দরকার। আমি চাকরিজীবী, আমার একটা ব্যক্তিগত জীবন আছে। আমি যদি পাবলিক ফিগার হতাম তাহলে আমার ব্যাপারে সবকিছু জানার অধিকার থাকত। কিন্তু আমি তো পাবলিক ফিগার না। আমি সামান্য একজন চাকরিজীবী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত