জমি নিয়ে বিরোধে দুই বোনকে প্রভাবশালীদের বেধড়ক ‘মারধর’

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২১, ০৯:২১ পিএম

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই বোনকে বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাজিরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলাটি করেছেন ভুক্তভোগী এক বোন।

এর আগে গত ১৭ মার্চ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলায় এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

মামলা সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রামের নুর ইসলাম মাদবর গংয়ের সঙ্গে একই বংশের ওই দুই বোনের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৭ মার্চ বিকেলে জমি দখল করে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নূর ইসলাম গংরা। এ ঘটনা শুনে ওই দুই বোন ঘটনাস্থলে যান। পরে দু’পক্ষ এক জায়গায় মিমাংসার জন্য বসেন। তখন অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন নুর ইসলাম গংরা। প্রতিবাদ করলে নুর ইসলাম মাদবরের (৫৫) নেতৃত্বে নূরুল আমিন বয়াতী, ইউসুফ আলী মিসু (২৭), ইদ্রিস মাদবর (৫০), কামরুন্নাহার বেগম (৫০) মিলে রড দিয়ে এক বোনের বাম হাত ভেঙে দেন। অপর বোন উদ্ধারের জন্য এগিয়ে এলে তাকেও কিল-ঘুষি মারেন এবং ইট ও রড দিয়ে তাকে জখম করেন। এক বোনের শিশু সন্তানকে কোল থেকে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেন। এ সময় তাদের শ্লীলতাহানিও করেন আসামিরা। পরে স্থানীয়রা দৌড়ে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

নির্যাতনের শিকার এক বোন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নুর ইসলাম, নুরুল আমিন, ইউসুফ, ইদ্রিস, কামরুন্নাহাররা। প্রতিবাদ করলে আমাকে, বড় বোন ও তার ছেলেকে মারধর করেন তারা। আমার ও বোনের পরনের কাপড় খুলে নির্যাতন করেছেন।

অভিযুক্ত নুর ইসলাম মাদবর এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

তিনি বলেন, ‘নো, নেভার। আমি এ বিষয়ে বক্তব্য দেব না। আমার বক্তব্য নিতে হলে থানা থেকে পারমিশন নিয়ে আসেন’।

বিকেনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, ‘সামান্য বিষয় নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে বলে আমি শুনেছি। সালিশে বসে বিষয়টি দেখার জন্য উভয়পক্ষকে বলেছিলাম। কিন্তু তারা আইনের মাধ্যমে লড়বেন।’

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম সরকার বলেন, দুই নারীকে বেধড়ক মারধর করেছে প্রতিপক্ষ। কারণ ওদের অভিভাবক নেই। ঘটনা শোনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত