চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পুলিশ-হেফাজত সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এতে আরো ২২ জন আহত হন। শুক্রবার বাদ জুমা হাটহাজারী বড় মাদ্রাসা থেকে হেফাজতের বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সংঘর্ষে এ হতাহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বিক্ষোভকারীরা হাটহাজারী মডেল থানা এলাকায় পৌঁছালে থানা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে গুলি ছুড়ে। এতে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে দুই পুলিশ এক সাংবাদিকসহ ২৬ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মধ্যে ২২ জনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চারজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
তারা হলেন, কুমিল্লার বরিউল ইসলাম, মাদারীপুরের হাফেজ মিরাজুল ইসলাম, ময়মনসিংহের আব্দুল্লাহ মিজান ও হাটহাজারী মো. জসিম। নিহতের মধ্যে তিনজন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও একজন পথচারী বলে জানা যায়।
হতাহতের খবরে বিক্ষোভকারীরা আরো বিক্ষুব্ধ হয়ে হাটহাজারী-পার্বত্য জেলা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহাকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস বলেন, জুমার পর বায়তুল মোকাররমে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ওপর অতর্কিতে পুলিশ হামলা চালিয়েছে, এমন খবর পাওয়ার পর হাটহাজারী বড় মাদ্রাসা থেকে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি থানার কাছাকাছি যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ অতর্কিতে হামলা চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চারজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
আহত আরো বেশ কয়েকজনতে উক্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আলাউদ্দীন তালুকদার গুলিবিদ্ধ চারজন মারা গেছে বলে জানান। তিনি নিহতদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করেন।
অন্যান্য আহতদের অর্থোপেডিক সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএসএম ইমতিয়াজ হোসাইন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৬ জনকে আহত অবস্থায় আনা হলে চারজনকে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। ২২ জনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাদের চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরীফ উল্যাহ বলেন, বিক্ষোভকারীরা ভূমি অফিসের প্রধান ফটক, অফিস ভাঙচুর করে। এ সময় অফিস থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ভূমি অফিসের গাড়িতে আগুনে জ্বালিয়ে দেয়। তা ছাড়া ডাকবাংলাও ভাঙচুর করেন।
ঘটনার ব্যাপারে থানার ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে ৬টা ৫২ মিনিটে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) শাহাদাত হোসেনকে ৬টা ৫৩ মিনিটে ফোন করলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।
আহত সাংবাদিক খোরশেদ আলম শিমুল জানান, তিনি ভূমি অফিসের গাড়িতে নথিপত্রে আগুন ও অফিস ভাঙচুর চালানোর সময় ছবি তুলতে গেলে বিক্ষোভকারীরা তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি আহত হন।
এ রিপোর্ট লেখার সময় হাটহাজারী থেকে নির্বাচিত সাংসদ ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ রুহুল আমিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাটহাজারী সার্কেল ও থানার ওসি বৈঠকে রয়েছেন।
