বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট সংলগ্ন ফুট ওভার ব্রিজের পাশে অস্থায়ী দোকানে খেজুর বিক্রি করে সংসার চালান এলাহী ব্যাপারী। গত ১০ বছর ধরে তিনি কেরানীগঞ্জ থেকে এখানে এসে ব্যবসা করছেন। প্রশাসনের নির্দেশে গত ১৬ মার্চ থেকে দোকান গুটিয়ে নেন। এরপর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। বায়তুল মোকাররম এলাকায় চলা আন্দোলনের ফলে আর দোকান বসাতে পারছেন না তিনি। গত বৃহস্পতিবার ফের দোকান বসানোর আশায় চৌকি ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে রাখলেও রাতের আঁধারে সেগুলো লাপাত্তা হয়ে যায়।
এলাহী ব্যাপারী গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভিআইপি মুভমেন্টের কথা বলে দোকান তুলে দেয় পুলিশ। এখন প্রতিদিনই চলছে বিক্ষোভ। ফলে আর দোকান বসাতে পারছি না। প্রতিদিন কিছু না হলেও গড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার খেজুর বিক্রি হতো। এখন পরিবার নিয়ে দুবেলা ঠিকমতো খাবারও খেতে পাচ্ছি না। খেজুরগুলো গুদামে রেখে দিয়েছি। এভাবে আর কিছুদিন থাকলে সব নষ্ট হয়ে যাবে।
এলাহী ব্যাপারীর মতোই অবস্থা খলিল ব্যাপারীর। তারও একটি খেজুরের দোকান ছিল বায়তুল মোকাররমের গেটের কাছে। প্রতিদিনই আসেন দোকান খোলার আশায়। কিন্তু আন্দোলন সংঘর্ষের কারণে দোকান খুলতে পারেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বায়তুল মোকাররম এলাকায় রাস্তার পাশে ছোট অস্থায়ী দোকান বসিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত কমপক্ষে ৩০০ দোকানি। এদের মধ্যে রয়েছে চা বিস্কুট, ফল, ক্রোকারেজ, বাচ্চাদের খেলনা, প্যান্ট-শার্ট, চাদর, টুপি, তসবিহ প্রভৃতির দোকান। এসব দোকানির অনেকে ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে এই এলাকায় ব্যবসা করছেন। একদিকে করোনার প্রভাবে ব্যবসার অবস্থা খারাপ অন্যদিকে ভিআইপির আগমন ও হেফাজতের আন্দোলনের ফলে দোকান বসাতে পারছেন না তারা।
গতকাল হরতাল কর্মসূচিতে হেফাজতে ইসলাম, আওয়ামী লীগ সমর্থক ও পুলিশের মুখোমুখি অবস্থানে যখন বায়তুল মোকাররম এলাকা রণক্ষেত্র তখনো এসব দোকানি এসে বসে আছেন দোকান খোলার অপেক্ষায়।
তারা জানান, পল্টন মোড় থেকে দৈনিক বাংলা মোড় ও বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট পর্যন্ত রাস্তার পাশে ফুটপাতে তিন শতাধিক ভাসমান দোকান ছিল। এসব দোকানির ছেলেমেয়ে নিয়ে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে।
আব্দুর রহমান নামের এক চায়ের দোকানি বলেন, ১০ বছরের বেশি সময় ধরে চা বিস্কুট বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছি। কিন্তু এই গন্ডগোলের জন্য দোকান বসাতে পারছি না।
ক্রোকারেজের দোকানি রফিক শেখ বলেন, ভিআইপি মুভমেন্ট ও হেফাজতের আন্দোলন আমাদের পেটে লাথি মারা ছাড়া আর কিছু না। দোকান খুলতে না পারলে খাব কী। আমাদের খবর কে রাখে।
