সোনাগাজী উপজেলার চর দরবেশ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরদরবেশ গ্রামে চাষ করা ৩১৭ একর জমির তরমুজ খাচ্ছে গরু-মহিষ। ছোট ফেনী নদীর উপকূলে প্রায় ৩৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন নোয়াখালীর সুবর্ণচরের কৃষক মোজাম্মেল হক শামীম। ফসল উত্তোলনের সময় স্থানীয় প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে গতকাল বৃহস্পতিবার মোজাম্মেল হক শামীম বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
শামীম জানান, প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ করে তিনি ৩৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। কিন্তু ফল উত্তোলনের সময় এলাকার প্রভাবশালীরা দিনে-রাতে তার ফসলি জমি থেকে জোর করে তরমুজ নিয়ে যায়। তা ছাড়া এলাকার গরু-মহিষের খামারিরা দিনে ও রাতে শত শত গরু-মহিষ দিয়ে জমির তরমুজ খাইয়ে দিচ্ছে। প্রভাবশালীদের কিছু বলতে গেলে উল্টো শ্রমিকদের মারতে চায়। ফলে পুঁজি নিয়ে বাড়ি ফেরাও তার জন্য কষ্টকর হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েক শ গরু-মহিষ খেয়ে ফেলছে শত শত তরমুজ। এ ছাড়া, বস্তা ভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় অনেক তরুণ।
গরু-মহিষের মালিক পিয়াস ও হৃদয় জানান, তরমুজ ক্ষেতের মালিক একদফা তরমুজ কেটে নিয়ে গেছে। তাই তারা গরু-মহিষ দিয়ে বাকিটা খাওয়াচ্ছে।
এ ব্যাপারে তরমুজচাষি শামীম বলেন, একটি তরমুজ ক্ষেত থেকে আমরা তিনবার তরমুজ কাটি। কিন্তু চলতি বছর প্রথমবার কাটার পরেই গরু-মহিষের মালিকরা আমাদের কিছু না বলে জমিতে কয়েক শ গরু-মহিষ ছেড়ে দেয়। রাতের আঁধারেও জমিতে চরে বেড়ায় গরু-মহিষের পাল।
নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক পাশর্^বর্তী আরেক তরমুজচাষি জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল প্রতিদিন মসজিদ, মক্তব, ওয়াজ মাহফিল ও দলীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে। এ ছাড়া আমাদের তরমুজ বহনকারী গাড়ি যাওয়ার সময় প্রতি গাড়ি থেকে ১৫০০-২০০০ টাকা চাঁদা আদায় করে। জমির ওপর দিয়ে তরমুজের গাড়ি যেতে হলে প্রতি জমির মালিককে দিনে ৫০০ টাকা দিতে হয়।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, একজন তরমুজচাষির অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
