ক্ষুদ্রঋণের নামে এনজিওর চড়া সুদের ব্যবসা

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২১, ১১:৪৫ পিএম

নওগাঁ ও জয়পুরহাটের বিভিন্ন উপজেলায় ‘বন্ধু মিতালী ফাউন্ডেশন’ নামে একটি এনজিও কয়েকটি শাখা খুলে বেআইনি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) সনদ ছাড়াই তারা নানা লোভনীয় অফার দেখিয়ে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক কিস্তিতে চালিয়ে চাচ্ছে ক্ষুদ্রঋণের নামে চড়া সুদের ব্যবসা। রাষ্ট্রীয় তফসিলভুক্ত ব্যাংক ও সংস্থাগুলোর চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন পদ্ধতিতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে।

ভুক্তভোগীরা জানান, নিজেদের আমানত/সঞ্চয় ফেরত কিংবা ঋণ নিতে গেলে হয়রানির শিকার হয়ে প্রতারিত হতে হচ্ছে।

এনজিওটি জানিয়েছে, বন্ধু মিতালী ফাউন্ডেশন ১২ বছর আগে নওগাঁ থেকে কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে ৩৯টি শাখার কার্যক্রম বিদ্যমান। নওগাঁ জেলার সীমানা পেরিয়ে জয়পুরহাটের বিভিন্ন উপজেলাতেও রয়েছে এর শাখা।

স্থানীয় শফিকুল ইসলাম, এনামুল হক, জিয়াসহ অনেকেই বলেন, আমাদের নানা প্রলোভন দিয়ে সঞ্চয়, ডিপিএস নেয় এবং এক-দেড় বছর ঘোরার পর তাদের কাছে ঋণ চাইলে ঋণ দেয় না। অনেক কষ্ট করে দিনের পর দিন ঘুরে ঘুরে এমনকি এলাকার লোকজন নিয়ে মারতে চাইলে টাকা ফেরত দিছে। এরকম শত শত মানুষের সঙ্গে করেছে। তারা ঋণ দেয় না, গ্রামগঞ্জে কর্মী ছেড়ে দিয়ে শুধু টাকা নিয়ে আসতে বলে।

বন্ধু মিতালী ফাউন্ডেশনের ফিল্ড অফিসার আজবির হোসেন সবুজ, অ্যাকাউন্ট অফিসার আলেয়া বেগম এফডিআরের রাখার কথা স্বীকার করে বলেন, এফডিআর রাখা হয়েছে। প্রতি লাখে ২ হাজার টাকা মুনাফা দেওয়া হয়। এছাড়া ক্ষুদ্রঋণও চালানো হয়।

ম্যানেজার এমতাজ উদ্দিন বলেন, আমরা ঋণ দিই। সঞ্চয়, ডিপিএস, এসটিআর এগুলো নেই। এফডিআর নেওয়ার বিষয় হেড অফিসের ব্যাপার।

এদিকে জোনাল ম্যানেজার সেকেরুল হাসান জেমস এফডিআরের নেওয়ার বিষয় অস্বীকার করে বলেন, আমরা জয়েন স্টক থেকে নিবন্ধন নিয়ে ১২ বছর ধরে নওগাঁ ও জয়পুরহাটে কার্যক্রম চালাচ্ছি। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) সনদ আমরা এখনো পাইনি।

জয়পুরহাট জেলা এনজিও সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন বলেন, এমআরএর সনদ ছাড়া ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনা করার বিধান নেই।

আক্কেলপুর উপজেলার সমাজসেবা অফিসার সোহেল রানা বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই এনজিওর বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তারা যদি অবৈধভাবে পরিচালনা করে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আক্কেলপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম হাবিবুল হাসান বলেন, ইতিমধ্যে এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি এবং তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেলেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজশাহী যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (জয়েন স্টক) সহকারী নিবন্ধক রকিবুল ইসলাম বলেন, শুধু জয়েন্ট স্টকের লাইসেন্স দিয়ে ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনা করতে পারবে না। যদি করে তা আইনবিরোধী কাজ হবে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির লাইসেন্স নিয়ে ঋণ কার্যক্রম চালাতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত