গেল জানুয়ারিতে উম্মে হাফসা রুমকিকে হারিয়ে হাইজাম্পের নতুন রানী হয়েছিলেন রিতু আক্তার। প্রথমবারের মতো জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে খেলতে নেমেই ১.৭০ মিটার লাফিয়ে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছিলেন ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি লম্বা গাইবান্ধার মেয়েটি। বাংলাদেশ গেমসে নিজের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবেন সেই প্রত্যাশাই ছিল। রিতু সেটা পারেননি। তবে রুমকিকে হারিয়ে ঠিকই সোনার হাসি হেসেছেন সেনাবাহিনীর এই অ্যাথলেট। রিতু ও রুমকি দুজনেই সমান ১.৬৯ মিটার লাফিয়েছিলেন। রিতু এই উচ্চতা অতিক্রম করেছিলেন একবারের চেষ্টায়। রুমকি দ্বিতীয়বারে অতিক্রম করায় সোনা জেতা হয়নি। পদক নির্ধারণের আগে অবশ্য দুজনই ১.৭১ মিটার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সেটায় সফল হলে কালই নতুন জাতীয় রেকর্ডের সাক্ষী হওয়া যেত। মহিলাদের হাইজাম্প ইভেন্টে ১.৬০ মিটার অতিক্রম করে ব্রোঞ্জ জিতেছেন নৌবাহিনীর রতœা খাতুন।
নিজের রেকর্ড ভেঙে সোনা জেতা হয়নি। তারপরও মোটেই অখুশি নন ১৯ বছরের রিতু। বাংলাদেশ গেমসের জন্য যে সেভাবে প্রস্তুতিই নেওয়া হয়নি তার, ‘অসুস্থতার কারণে সেভাবে প্রস্তুতি নিতে পারিনি। আত্মবিশ্বাসও ছিল শূন্যের কোটায়। ভাবিনি ১.৬৯ অতিক্রম করতে পারব। কিন্তু আল্লাহর রহমতে প্রথম প্রচেষ্টায় তা অতিক্রম করি।’ মেয়েদের হাইজাম্পে রিতুর আবির্ভাবের আগে অবশ্য সেরা ছিলেন রুমকি। নৌবাহিনীর এই অ্যাথলেটও কাল খেলেছেন চোট নিয়ে। তারপরও রিতুকে ভালোই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন তিনি। ১.৬৯ মিটারে এসে অবশ্য রুমকির দু’বারে সফল হতে হয়। যা আসলে তাকে পেছনে ফেলে দেয়। রিতু পরিষ্কার জানালেন, সোনা জয়ের মতো আত্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি নামেননি, ‘শারীরিক ও মানসিকভাবে আমার কিছু সমস্যা ছিল। তাই ভালো অনুশীলন নিতে পারিনি। মাত্র দু’সপ্তাহ টেকনিক নিয়ে কাজ হয়েছে। আরও বেশি সময় হলে হয়তো রেকর্ডটা হয়ে যেত। বাংলাদেশ গেমস বলেই চেয়েছিলাম নতুন রেকর্ড গড়তে। সেটা না পারলেও আমি খুশি সোনা জিততে পেরে।’
রিতুর মতো পুরুষ হাইজাম্পে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছেন মাহফুজুর রহমান
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এই অ্যাথলেট ২.০৫ মিটার অতিক্রম করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাসুদ রানা ও স্বপন বিশ্বাসকে পেছনে ফেলেছেন। দুজনই অতিক্রম করেছেন ২ মিটার। তবে ক্রসিংয়ের হিসাবে মাসুদ রানা জিতেছেন রুপা।
ম্যারাথন দিয়ে শুরু
ম্যারাথনে সেরা হয়েছেন সেনাবাহিনীর মোহাম্মদ ফরিদ মিয়া। গতকাল সকালে আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২৬ মাইল দূরত্ব ২ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডে অতিক্রম করেন এই দৌড়বিদ। তার চেয়ে মাত্র দুই সেকেন্ড সময় বেশি নিয়ে রুপায় সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে সেনাবাহিনীর আরেক দৌড়বিদ ফিরোজ খানকে। একই সংস্থার কামরুল ইসলাম পেয়েছন ব্রোঞ্জপদক।
২০১৩ সালে অষ্টম বাংলাদেশ গেমসের ম্যারাথনে অবশ্য সেভাবে সুবিধা করতে পারেননি ফরিদ মিয়া। তখন বয়স ছিল ১৯। ২০১৯ সালে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে সোনাজয়ী এই অ্যাথলেট এরপর জিতেছেন বিভিন্ন আসরের আরও দুটি সোনা। সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে বাংলাদেশ গেমসের ম্যারাথন ইভেন্টটি নিজের করে নেওয়া ফরিদ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো ম্যারাথনে সোনা জিতলাম। এজন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে, প্রচুর ঘাম ঝরাতে হয়েছে। আসলে পরিশ্রমের ফল পেয়েছি বলে খুব খুশি আমি। আগামী দিনেও ভালো করতে চাই।’ কাল আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে পুরুষ হ্যামার থ্রো ইভেন্ট। এই ইভেন্টে সোনার হাসি হেসেছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মাহফুজ হাসান। ৫০.৮৫ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শফিকুল ইসলামকে হারান মাহফুজ। শফিকুল ৪৮.৭৪ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করেন। সেনাবাহিনীর জুয়েল ইসলাম ৪৪.২৯ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন।
