বিশ্বে বাড়ছে কৌশলগত জোট

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২১, ১১:৪৮ পিএম

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর যুদ্ধের মিত্রশক্তি ও সংশ্লিষ্ট শক্তিসমূহ এবং জার্মানির মধ্যে ভার্সাই চুক্তি নামে একটি শান্তিচুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তির পক্ষে বিপক্ষে অনেক আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। কিন্তু মার্কেট-মিডিয়া ও মিলিটারিশাসিত সময়ের হিসাবে ভার্সাইকে কেন্দ্র করেই বিশ্ব নতুন করে জোট বাঁধার চর্চায় নামে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রকোপ যেতে না যেতেই চলে আসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। এই যুদ্ধটি হয় পুরোপুরি জোটনির্ভর। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যেমন পরাজিত শক্তি বলতে ছিল শুধু জার্মানি। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত শক্তি ছিল জার্মানি ও তার জোট। জাপানে দুই দুইটি পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘদিন ভার্সাইয়ের আদলে জোট গড়ে উঠছিল বিশ্বে। কিন্তু টুইন টাওয়ারে হামলার ঘটনার পর জোট গঠনে নতুনত্ব আসে। অর্থনৈতিক জোটকে ছাপিয়ে সামরিক জোট গুরুত্ব পেতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রসহ অধিকাংশ ক্ষমতাধর দেশই কোনো না কোনো জোটের অংশ বা সে নিজেই জোটের মুখ্য চালিকাশক্তি। ওসামা বিন লাদেন ও তাকে আশ্রয়দাতা আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে শায়েস্তা করতে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানসহ একাধিক দেশের সঙ্গে সামরিক সহায়তা জোট গড়ে তোলে। এই ধারাবাহিকতায় অন্য দেশগুলোও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছোট ছোট জোট গড়ে তোলে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে আরব বসন্ত ও সিরিয়া যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতা সামরিক সহায়তা জোটের প্রাসঙ্গিকতাকে নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করে। কারণ সিরিয়া যুদ্ধে অনেক পক্ষের প্রকাশ্য অংশগ্রহণ থাকলেও, অনেক পক্ষের পরোক্ষ অংশগ্রহণও রয়েছে। এই পরোক্ষ অংশগ্রহণকারী দেশগুলো প্রক্সিযুদ্ধ চালাচ্ছে সিরিয়ায়।

সিরিয়ার এই প্রক্সিযুদ্ধের মডেল এত দ্রুত ছড়িয়ে গেছে যে একে ঠেকাতে এখন নতুন জোট গঠনের প্রয়োজন পড়ছে। আর এবারের এই নতুন জোটের আঙ্গিক হচ্ছে ‘কৌশলগত জোট’। আর এই কৌশলগত জোটের শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী দেশ তথা চীনের হাত ধরে। সম্প্রতি ইরান ও রাশিয়া নিজেদের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি সই করার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিশনের চেয়ারম্যান মুজতবা জুন্নুরি। তিনি বলেছেন, চীনের সঙ্গে ২৫ বছর মেয়াদি কৌশলগত চুক্তির অভিজ্ঞতাকে এখানে কাজে লাগানো হবে। রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমকে জুন্নুরি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এ ধরনের কৌশলগত চুক্তি সই করতে তেহরান ও মস্কো উভয়েরই ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।

তিনি বলেন, গত বছর ইরানের সংসদ স্পিকার বাকের কলিবফের মস্কো সফরের সময় তেহরানের পক্ষ থেকে এই চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হলে মস্কো তাকে সাদরে গ্রহণ করে। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে জোর শলাপরামর্শ চলছে বলে তিনি জানান। জুন্নুরি বলেন, প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি সরকার রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করলে তার প্রতি সংসদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হবে।

ইরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিপীড়নমূলক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার প্রসঙ্গেও কথা বলেন ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিশনের এই চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা ব্যর্থ করে দেওয়ার অন্যতম উপায় হচ্ছে প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা শক্তিশালী করা। ইরান বর্তমানে সে লক্ষ্যে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে বলে জানান এই প্রভাবশালী সংসদ সদস্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত