শরীয়তপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২১, ০৪:১৯ পিএম

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসাটির অফিস সহকারী কাম হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টা এবং অধ্যক্ষ ও তার দুই ভাইর বিরুদ্ধে হিসাবরক্ষকে পালাতে সহযোগিতা করার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

বুধবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার একটি মাদ্রাসার কক্ষে এই ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

ছাত্রীর বাবা রাতে চারজনকে আসামি করে জাজিরা থানায় মামলা করেন।

অভিযুক্ত হলেন- ওই মাদ্রাসার অফিস সহকারী কাম হিসাবরক্ষক ও নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া থানার আশাটি তেলিগাতী গ্রামের মৃত মৌলভী মাঈন উদ্দিনের ছেলে আবদুল হান্নান (৫৫)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই মাদ্রাসায় চাকরি করেন। আর মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মুফতি জিয়াউর রহমান (৪৫) ও তার ভাই নাসির দড়ি (৫০) ও আরিফ দড়ি (৩২) অভিযুক্ত আবদুল হান্নানকে পালাতে সহায়তা করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়ে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষক চারজন ছাত্রীকে খাবার নিয়ে অফিস সহকারী কাম হিসাবরক্ষক আবদুল হান্নানের কক্ষে পাঠায়।

শিক্ষার্থীরা খাবার নিয়ে কক্ষে ঢুকলে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে রেখে বাকি শিক্ষার্থীদের কক্ষ থেকে বের করে দেয় হান্নান। পরে ধর্ষণের চেষ্টা করলে ওই ছাত্রীর চিৎকারে হান্নান ছেড়ে দেয়। কাউকে বললে মারধর করবে বলে হান্নান ওই ছাত্রকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখান।

পরে ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে তার মাকে ঘটনাটি খুলে বলে। পরে ওই শিক্ষার্থীকে অসুস্থ অবস্থায় জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পরিবার। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই ছাত্রীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

মামলার আসামি আরিফ দড়ি বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্ত আবদুল হান্নানকে একটি রুমে আটকে রাখি। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো জন্য চেষ্টা করি। এ সময় রুমের জানালা দিয়ে হান্নান পালিয়ে যায়। আমরা হান্নানকে পালাতে সাহায্য করিনি।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এমারত হোসেন মিয়া বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেননি। আমি বিষটি তদন্ত করব। অপরাধ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার বলেন, ওই মাদ্রাসার ছাত্রীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার চারজন আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত