মায়ের হত্যাকারী বাবাকে ধরিয়ে দিল ৫ বছরের শিশু

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২১, ০৯:৩৩ পিএম

নীলফামারীতে পাঁচ বছরের শিশু মেয়ে মারিয়ার জবানবন্দীতে গৃহবধূ রোজিনা আক্তার দুলালীর ক্লুলেস হত্যার রহস্য উদঘাটন করছে সদর থানা পুলিশ।

গত বছরের ১১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় স্ত্রী রোজিনা আক্তার দুলালীকে হত্যার পর হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহের জন্য গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের ফ্যানে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার প্রচারণা চালান ইউনুস আলী।

দুলালীর পরিবারের সদস্যরা সেটিকে আত্মহত্যা বলে মেনেও নিয়েছিলেন। কিন্তু ময়নাতদন্তে হত্যার বিষয়টি সামনে এলে ক্লুলেস ওই হত্যার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে পুলিশ।

নিহতের পাঁচ বছরের শিশু মেয়ে মারিয়ার দেওয়া তথ্যের ক্লুলেস হত্যা রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

গত ৭ এপ্রিল শিশু মারিয়া আদালতে হত্যাকাণ্ড বিষয়ে জবানবন্দি দেয়।

মারিয়ার জবানবন্দীর প্রেক্ষিতে চার মাস পর রোজিনা আক্তার দুলালী হত্যাকারী স্বামী ইউনুসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাহমুদ উন নবী।

পুলিশ জানায়, নীলফামারী জেলা সদরের সংগলশী ইউনিয়নের কাদিখোল গ্রামের মৃত নাজির উদ্দিনের ছেলে ইউনুস আলী ২০০৬ সালে রাশেদা বেগম নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। রাশেদাকে না জানিয়ে ২০১৬ সালে সৈয়দপুরের ঢেলাপীর আবাসন গ্রামে এক কন্যা সন্তানের জননীকে (২৫) দ্বিতীয় বিয়ে করেন ইউনুস। বিয়ের পর সংগলশী ইউনিয়নের শিমুলতলী গ্রামে ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন তারা।   

পুলিশ জানায়, প্রথম সংসারে স্ত্রী ও তিন ছেলে সন্তান এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর কোলে ১০ মাস বয়সী মেয়ে রয়েছে ইউনুসের। দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সাংসারিক কলহের জেরে ২০২০ সালের ১১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় দুলালীর সঙ্গে কথাকাটাকটির এক পর্যায়ে রোজিনার গলা চেপে ধরে ইউনুস। এতে রোজিনা অজ্ঞান হয়ে পড়লে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে দেয় ইউনুস। এরপর মারিয়াকে বলে ‘তুই ভেতর দিক থেকে দরজা আটকে দিয়ে চুপ করে শুয়ে থাক। এ কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় ইউনুস।’

পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে সৈয়দপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা যায় রোজিনা হত্যার শিকার হয়েছেন।

নীলফামারী সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাহমুদ উন নবী বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার গত ২৩ মার্চ নিহতের বাবা দুলাল হোসেন বাদী হয়ে নীলফামারী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাটি ছিল সম্পূর্ণ ক্লুলেস। পরবর্তীতে বিভিন্ন বিষয়কে সামনে রেখে এবং একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী পাঁচ বছরের শিশু কন্যা মারিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হত্যার রহস্য উম্মোচিত হতে থাকে।

ওই সূত্র ধরে রোজিনার স্বামীকে ৬ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের কাছে সে হত্যাণ্ডের দায় স্বীকার করে।  গ্রেপ্তার ইউনুসকে ৭ এপ্রিল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্যাট সহদেব চন্দ্র রায়ের আদালতে নেয়া হলে বিচারকের কাছে হত্যার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত