গত বছর করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে পর্যটনের ভরা মৌসুমে এবং ২টি ঈদে মৌলভীবাজারে ছিল না পর্যটক। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে পর্যটনকেন্দ্রগুলো। এর ফলে জেলার প্রায় ১৫০টি হোটেল-রিসোর্টকে পড়তে হয় আর্থিক সংকটে। চাকরি হারান এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত শত শত কর্মী। অনেক ব্যবসায়ী পুঁজি হারানোর পথে ছিলেন।
তবে গত কোরবানির ঈদকে ঘিরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে মৌলভীবাজারের পর্যটন শিল্প। এ বছর শীতে আসেন বিপুল সংখ্যক পর্যটক। যার মাধ্যমে আশার আলো দেখছিলেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ হোটেল রিসোর্ট ব্যবসায় যে ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন তা কাটিয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু এরই মধ্যে গত ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণা এবং করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এই শিল্পকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
শ্রীমঙ্গলের গ্রিন লিফ রিসোর্টের পরিচালক এস কে দাস বলেন, শীতকাল পর্যটন মৌসুম হলেও বৃষ্টি সেভাবে শুরু না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকরা আসেন। চলমান লকডাউন কত দিন থাকবে তার চেয়ে বড় হচ্ছে করোনা কবে নিয়ন্ত্রণে আসবে।
মৌলভীবাজারের একটি ৩ তারকা মানের রিসোর্টের মার্কেটিং ম্যানেজার হৃদয় শুভ বলেন, গত বছরে টানা চার মাসের বেশি সময়ে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি ও সাড়ে ৩ হাজার মানুষ কর্মহীন থাকার পর অবশেষে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল মৌলভীবাজারের ১৫০টি হোটেল-রিসোর্ট। আমাদের অনেক সহকর্মী চাকরি হারিয়েছিলেন। কর্মহীনরা আস্তে আস্তে নতুন করে জায়গা নিচ্ছিল। ঠিক সেই সময়ে লকডাউন বা করোনার পরিস্থিতি ব্যবসার পাশাপাশি অনেক বেকার সৃষ্টি করবে।
হোটেল মেরিনার পরিচালক নাজমুল হাসান মিরাজ বলেন, ‘আমার হোটেলটি ভাড়া নিয়ে করেছি। মাসিক ভাড়া ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। কর্মচারীদের বেতনসহ মাসিক খরচ আড়াই লাখ টাকা। গত বছর ঋণে জড়িয়ে পড়েছিলাম তা এখনো আছে। এরই মধ্যে আবার লকডাউন। যদি এই মাসেই পর্যটন শিল্প স্বাভাবিক না হয় আমাদের আর কখনোই ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না হয়তো।
লাউয়াছড়ার ট্যুর গাইড সাজু মারচিয়াং জানান, আমরা গত বছর যে আর্থিক সমস্যায় পড়েছিলাম এবারও কি তাই হতে যাচ্ছে কি না তা জানি না। মানুষ বেড়াতে না এলে আমরা আর্থিক সংকটে পড়ব।
পর্যটন সেবা সংস্থা শ্রীমঙ্গলের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক জানান, লাখ লাখ টাকা আমাদের অনেক সদস্য দেনা আছেন এরই মধ্যে আবারও দেনার দায় বাড়বে। হয়তো অনেকে পুঁজি হারিয়ে এই শিল্প থেকে বাধ্য হয়ে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। তিনি জানান, শুধু শ্রীমঙ্গলে রয়েছে ৭০টি হোটেল-রিসোর্ট যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারী।
শ্রীমঙ্গলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, সরকার যদি পর্যটন শিল্পের জন্য কোনো পরিকল্পনা আলাদাভাবে নেয় সে ক্ষেত্রে অবশ্যই শ্রীমঙ্গল অগ্রাধিকার পাবে। তবে দীর্ঘদিন পর্যটন বন্ধ থাকলে এই এলাকায় আর্থিক সংকট সৃষ্টি হবে। কারণ শ্রীমঙ্গলের অর্থনীতির ৪০% পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পর্যটনের উপকারভোগী। এই এলাকার কৃষিপণ্য বিশেষ করে আনারস, লেবু এবং চায়ের গ্রাহক পর্যটকরা।
