জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার না পাওয়ার আক্ষেপ ছিল ওয়াসিমের

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৩৭ পিএম

কিংবদন্তি অভিনেত্রী কবরী চলে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টা পেরোতেই ঢাকাই চলচ্চিত্রের আরেক নক্ষত্রের পতন ঘটে।  শনিবার রাত সাড়ে ১২টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান সত্তর ও আশির দশকের জনপ্রিয় নায়ক ওয়াসিম। কিন্তু একটা আক্ষেপ নিয়েই চলে যেতে হলো এই গুণী অভিনেতাকে। আর সেই আক্ষেপটি হলো অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার না পাওয়ার আক্ষেপ।

১৮ এপ্রিল ওয়াসিমের দাফনের আগে ওয়াসিমের এই আক্ষেপের কথা জানালেন তার ছেলে ব্যারিস্টার ফরদুন। তিনি বলেন, ‘মানুষ মারা যাওয়ার পর হয়তো তিন-চার কলামে বড় বড় সংবাদ ছাপা হয়। সবাই শোক প্রকাশ করেন। কিন্তু বেঁচে থাকতে যদি তাকে সঠিক সম্মান দেওয়া হয়, তাহলে সে আনন্দ পায়। এদেশের মানুষ আমার বাবাকে যে সম্মান দিয়েছে তা ভোলার নয়। কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে কিছু পাননি। বাবার দুটি ইচ্ছে ছিল। মানুষের ভালোবাসা আর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। ভালোবাসা পেলেও স্বীকৃতির বিষয়টি রয়ে গেল আক্ষেপ হয়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাবা ১৯৭৯ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের সেরা অভিনেতা হিসেবে মনোনীত ছিলেন। ‘ঈমান’ ছবির জন্য এ পুরস্কার তার পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে সেটা দেওয়া হয়নি। এমনকি সেবার সেরা অভিনেতার ক্যাটাগরিই বাতিল করা হয়। পুরস্কার না পাওয়ার এ আক্ষেপ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছিল বাবার।’

ঢালিউডে ওয়াসিমের অভিষেক হয় ১৯৭২ সালে। সহকারী পরিচালক হিসেবে ‘ছন্দ হারিয়ে গেল’ চলচ্চিত্রে কাজ করেন। নায়ক হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয় মহসিন পরিচালিত ‘রাতের পর দিন’ সিনেমার মাধ্যমে। তার পুরো নাম মেজবাহউদ্দীন আহমেদ। দিন যতই যেতে থাকে ওয়াসিমের জনপ্রিয়তা ততই আকাশচুম্বী হয়। বাণিজ্যিক ঘরানার সিনেমার অপরিহার্য নায়ক হয়ে ওঠেন তিনি।

কবরী, শাবানা, ববিতা, অলিভিয়া, সুচরিতা, অঞ্জু ঘোষ, অঞ্জনা, নূতন—সে সময়ের এসব অভিনেত্রীর সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেন তিনি।

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘ছন্দ হারিয়ে গেলো’, ‘রাতের পর দিন’, ‘দোস্ত দুশমন’, ‘দি রেইন’, ‘রাজদুলারী’, ‘বাহাদুর, ‘মানসী’, ‘সওদাগর’, ‘নরম-গরম’, ‘বেদ্বীন’, ‘ঈমান’, ‘লাল মেম সাহেব’ প্রভৃতি। ‘বেদ্বীন’, ‘ঈমান’, ‘মানসী’-এ সিনেমাগুলোতে তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত