যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২১, ০৭:১১ পিএম

নরসিংদীর মনোহরদীতে দৈনিক ‘আমার সংবাদ’ পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি ইমাম হোসেন রিপনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাত ৭টার দিকে মনোহরদী সরকারি কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ইমাম হোসেন রিপন মনোহরদী উপজেলা রিপোর্টাস ক্লাবের সভাপতি ও মনোহরদী প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য।

আহত সাংবাদিকের স্বজনদের অভিযোগ, লকডাউনে অবৈধভাবে নদীর মাটি বিক্রি করছেন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা আতিকের নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটে।

একদিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। সাংবাদিক নির্যাতনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নরসিংদী ও মনোহরদী প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন।

সাংবাদিক রিপনের বড় ভাই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আতিকুল ইসলাম মিলন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, চলমান লকডাউনের মধ্যে অবৈধভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মনোহরদী সরকারি কলেজের পেছনের একটি জমিতে মাটি ভরাট করেন যুবলীগ নেতা আতিক। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিক রিপনের সঙ্গে এক ড্রাম চালকের বাগবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে ইফতারের পর দুই যুবক আতিকের সঙ্গে কথা বলার জন্য সাংবাদিক রিপনকে বাড়ি থেকে ডেকে কলেজে নিয়ে আসে। সেখানে আসামাত্র ১৫ থেকে ২০ জনের একদল সন্ত্রাসী সাংবাদিক রিপনকে মারধর করে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহত রিপনকে উদ্ধার করে।

তিনি জানান, হামলাকারীদের আঘাতে সাংবাদিক রিপনের মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। ঘটনার পর থেকে তার নাক দিয়ে রক্ত ঝরছে। তাকে প্রথমে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খননে উত্তোলিত মাটি বিক্রি করতে গড়ে উঠেছে একটি সিন্ডিকেট চক্র। তারা দিনরাত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে মাটি বিক্রি করায় রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আর ধূলোবালিতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ড্রাম ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান বলেন, ‘ইফতারের আগে আমার ট্রাকের চালক জানায়, সাংবাদিক রিপন ভাই তাকে মারধর করেছে। ইফতারের পর এ বিষয়ে কথা বলতে আমি কলেজ মাঠে গিয়ে দেখি পোলাপাইন রিপন ভাইকে মারধর করছে। আমি দৌড়ে ওনাকে বাঁচিয়েছি’।

সাংবাদিকের ওপর হামলাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান বলেন, ‘মাটির ট্রাক যাওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। আহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছে, আতিক ফোন দিয়ে নিয়ে তাকে মারধর করেছে। কিন্তু তারা এখনো থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।

নরসিংদী প্রেসক্লাবের সভাপতি মাখন দাস বলেন, মনোহরদীতে একের পর এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। কিন্তু পুলিশ কোনো হামলাকারীকেই গ্রেপ্তার করেনি। আমরা সাংবাদিকের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত