করোনায় ভিসা নিয়ে বিপাকে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশীরা

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৪৩ পিএম

জ্যোতির্ময় সাহা চুয়েট থেকে পাস করে বসে আছেন। পিএইচডি করতে আমেরিকান এফ-ওয়ান ভিসার চেষ্টা করলেও ‘কঠোর বিধিনিষেধের’ কারণে তা পাচ্ছেন না। এখন ফান্ডিং বাতিল হতে পারে বলে শঙ্কায় পড়েছেন! জ্যোতির্ময়ের মতো আরও অনেক শিক্ষার্থী ভিসা জটিলতার কারণে মহামারীর সময়ে এমন হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।

আমেরিকান দূতাবাস বলছে, সরকার থেকে কোনো অনুমতি না পেলে তারা এ ব্যাপারে সমাধানে আসতে পারছেন না।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূতাবাসের ভিসা কার্যক্রম সচল রাখলে সমাধান মিলত।

‘‘করোনাভাইরাসের জন্য দুইবার আমি আমার ভর্তি পিছিয়েছি,’’ জ্যোতির্ময় বলছিলেন তার ভোগান্তির কথা, ‘‘প্রথমবার ফল ’২০ থেকে স্প্রিং ’২১ এ, আর এখন ফল ’২১ এ। যুক্তরাষ্ট্রে নিজ খরচে পিএইচডি করা অসম্ভব। আমার প্রফেসর আমাকে দুইবার ছাড় দিয়েছেন, কিন্তু এবার যেতে না পারলে ফান্ডিং বাতিল হওয়ার তীব্র শংকায় আছি। এটি খুব হতাশাজনক।’’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গ্র্যাজুয়েট বললেন, ‘‘আমি দেশের একটি স্বনামধন্য বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলাম। বাংলাদেশের শিল্প-ব্যাবস্থাপনার পশ্চাৎপদতা আর উন্নত প্রযুক্তির অভাব অনুধাবন করে আমি এ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নেবার সিদ্ধান্ত নেই। গত বছর একাধিক আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও সময়মতো ভিসা না পাওয়ায় আমার স্কলারশিপ বাতিল হয়। হতাশা ভুলে এ বছর আবার আবেদন করি।এবারও একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ পেয়েছি। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে এবারও আমাকে একই পরিণতির শিকার হতে হবে! কিন্তু আমি সেটা কোনোভাবেই চাই না।’

আরেক শিক্ষার্থী বলছেন, ‘প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে আবেদন ফি এবং স্কোর সাবমিশন বাবদ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়, দিতে হয় জি আর ই, টোফেল, আইইয়েলটিএস এর মতো পরীক্ষা, যেগুলোর প্রত্যেকটির ফি ১৭ হাজার টাকা করে এবং এগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে এবছরই। আমার পরিবার আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিল না বিধায় আমি টিউশনি করে এই টাকা জমিয়ে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু এই ভিসা জটিলতায় আমার স্বপ্ন আজ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম!’

একইভাবে বিশ্বের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বলে খ্যাত এম আই টি, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়া একাধিক শিক্ষার্থী এমন অনিশ্চয়তার চোরাবালিতে পড়েছেন।

সংকট নিরসনে উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে এক হয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করলে তাদের প্রতিনিধি দলকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও এ বিষয়ে কোন সুরাহা হয়নি।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘তরুণ সমাজের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং আমেরিকান দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে ভিসা কার্যক্রম লকডাউনের আয়তামুক্ত রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই সেবা সচল রাখা হোক।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত