নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার তল্লা এলাকায় একটি ভবনের তিনতলার ফ্ল্যাটে লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে এক শিশুসহ দুটি পরিবারের ১১ জন দগ্ধ হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার ভোরে তল্লা জামাইবাজার এলাকায় মফিজুল ইসলামের তিনতলা বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দগ্ধরা হলেন হাবিবুর রহমান (৫৬), তার স্ত্রী আলেয়া বেগম (৪২), এ দম্পতির ছেলে লিমন (২০), মেয়ে সাথী (২৫), মিম আক্তার (২২) ও দুই মাস বয়সীআরেক ছেলে ফাহাদ। এ ছাড়া আহত হয়েছেন নিরাহার (৫৫), তার স্ত্রী শান্তা বেগম (৪০), এ দম্পতির ছেলে সামিউল (২৬) ও তার স্ত্রী মনোয়ারা আক্তার (১৬)। আহত বাকিদের নাম জানা যায়নি। তাদের সবাইকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর তল্লায় যে মসজিদে বিস্ফোরণে ৩৪ জন নিহত হয়েছিলেন, তার কাছেই মফিজুল ইসলামের বাড়িতে গতকাল এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, তল্লার সেই মসজিদের কিছু দূরে মফিজুলের বাড়ির তৃতীয় তলায় গার্মেন্টস শ্রমিক দুটি পরিবার বসবাস করত। রাতে গ্যাস বার্নার বন্ধ না করে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। এতে চুলা থেকে গ্যাস বের হয়ে রান্নাঘরসহ অন্যান্য কক্ষে জমে থাকে।
ভোরে রান্নার জন্য চুলা জ্বালাতে গেলে বিকট শব্দে গ্যাসের বিস্ফোরণ হয়। এতে ওই ফ্ল্যাটের দুটি কক্ষের দেয়াল উড়ে গিয়ে পাশের দোতলা ভবনের ছাদে পড়ে। বিস্ফোরণে ফ্ল্যাটের দরজা-জানালার কাচ ভেঙে যায়। পাশের ভবনের দরজা-জানালা ও দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানান তিনি।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গতকাল দুপুরে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে তিনি জানান, বিস্ফোরণের কারণ তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রহিমা আক্তারকে আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরাকে সদস্য সচিব করে সাত সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই ভবনের বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়ে ভবনটি সিলগালার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরা, ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামানসহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
