হেফাজত নেতা নোমান ফয়েজির বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলা

আপডেট : ০৭ মে ২০২১, ০৫:০৫ পিএম

হেফাজতের সদ্যবিলুপ্ত কমিটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজীর বিরুদ্ধে হাটহাজারী  থানায় এক নারী ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন। 

বৃহস্পতিবার রাতে এ মামলা দায়ের হয়। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) আবদুল্লাহ আল মাসুম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

মামলার এজাহারে ওই নারী অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালে মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজীর সঙ্গে তার ফেইসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে তাদের উভয়ের মধ্যে ফোনালাপ এবং মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। একপর্যায়ে নোমান ফয়েজী তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখায়। বিয়ের প্রলোভনে পড়ে ওই নারী হাটহাজারী এসে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকে। একই সালের নভেম্বর পর্যন্ত ভাড়া বাসায় এই হেফাজত নেতা বিয়ের প্রলোভনে তাকে ধর্ষণ করেন।  

মামলার অভিযোগে বলা হয়, এক বছর পর ওই নারী হাটহাজারী থেকে তার আত্মীয়ের বাসা চট্টগ্রাম শহরে চলে আসেন। সেখানে গিয়েও নোমান ফয়েজী বিভিন্ন সময় তার সঙ্গে হোটেল কিংবা বাসায় শারীরিক সম্পর্ক ঘটায়। 

এ ঘটনায় তিনি হাটহাজারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। 

উল্লেখ্য গত ২৬, ২৭, ২৮ মার্চ দেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের বিরোধিতা করে হাটহাজারীতে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এই সহিংস ঘটনায় হাটহাজারী থানা ডাকবাংলো, সদর তহশীল অফিস, সহকারী কমিশন ভূমি অফিস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। বিক্ষোভে সহকারী কমিশনার ভূমির সরকারি গাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। হাটহাজারী-নাজিরহাট মহাসড়কে দেয়াল তুলে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ডাকবাংলোতে অবস্থানকারী একজন শিক্ষানবীশ এএসপি, থানার একজন উপপরিদর্শককে মারধর এবং ডিএসবির এক কনস্টেবলকে ধরে নিয়ে মাদ্রাসায় আটকে রেখে তাকে জীবননাশের হুমকির অভিযোগ পাওয়া যায়। 

এ ঘটনায় থানার দুই উপপরিদর্শক এবং ডিএসবির ভুক্তভোগী কনস্টেবল বাদী হয়ে পৃথক তিনটি মামলা রেকর্ড করা হয়। 
এই তিন মামলার দুটি মামলায় মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজী বিবাদী করা হয়। এসব মামলায় ১৪৮ জনের নামোল্লেখসহ তিন হাজারজনকে বিবাদী করা হয়।  

পুলিশ জানায়, থানায় মামলা রেকর্ডের পর ফয়েজী আত্মগোপন চলে যায়। গত ৫ এপ্রিল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম তাকে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার একটি গ্রাম থেকে আটক করে।

আটকের পর তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশের পক্ষ থেকে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। রিমান্ডে নেয়ার পর চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস এম শহীদুল হক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, নোমান ফয়েজী একাধিক নারীর সঙ্গে বিবাহবর্হিভুত সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন জিজ্ঞাসাবাদে। 

পরে পুলিশ তদন্ত করে ভুক্তভোগী এক নারীকে খুঁজে পায় বলে জানায়। আর এই নারী তার বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। হাটহাজারী সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন মামলা রেকর্ডের কথা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত