বছর ঘুরলেও দাঁড়াতে পারেনি জামদানি শিল্পীরা

আপডেট : ০৮ মে ২০২১, ০৫:১০ এএম

করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাবে লোকসান কাটিয়ে গত এক বছরেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি সোনারগাঁয়ের জামদানি শিল্পীরা।

গত বছর মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে সোনারগাঁয়ের জামদানি শিল্পে এর বিরূপ প্রভাব পড়া শুরু হয়। বন্ধ হয়ে যায় অধিকাংশ জামদানির তাঁত। কর্মহীন হয়ে পড়েন সহস্রাধিক তাঁতি। অনেকেই পেশা বদলে চলে যান অন্য পেশায়। গত বছর দুই ঈদ ও পহেলা বৈশাখে শপিং মলসহ বিপণিবিতানগুলো বন্ধ থাকায় অনেক জামদানি শাড়ি বিক্রি করতে পারেনি তাঁতিরা। তাছাড়া চাহিদা না থাকায় বন্ধ করে রাখতে হয় সব তাঁত। ফলে তাঁতসংশ্লিষ্ট সবাই বেকার হয়ে পড়েন।

করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে সোনারগাঁয়ের সহস্রাধিক তাঁতের মধ্যে অধিকাংশ তাঁতই পুনরায় চালু করা হয়। কিন্তু চলতি বছর মার্চ থেকে করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়লে আবারও লোকসানের মুখে পড়ে এ শিল্পটি। এবার ঈদেও তারা আশানুরূপ শাড়ি তৈরি করতে পারেনি। এর কারণ হিসেবে তাঁতিরা জানায়, জামদানি শাড়ি তৈরি সময়সাপেক্ষ। করোনার কারণে শপিং মল ও বিপণিবিতানগুলো খোলার ব্যাপারে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে তাঁতিরা শাড়ি বোনা বন্ধ রাখে। ফলে লোকসানের মুখে পড়ে তারা।

সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর, কাঁচপুর ও জামপুর ইউনিয়নের সহস্রাধিক পরিবার জামদানি শাড়ি তৈরির সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে সাদিপুর ইউনিয়নের কাজিপাড়া, ভারগাঁও, আন্দারমানিক, শিঙ্গলাব ও চৌরাপাড়া, জামপুর ইউনিয়নের তালতলা, মুছারচর ও হাতুরাপাড়া এবং কাঁচপুর ইউনিয়নের বেহাকৈর, গঙ্গাপুর, কালিয়াভিটা, গাবতলা ও সুখেরটেক গ্রামে জামদানি তৈরির তাঁতের সংখ্যা বেশি।

বর্তমানে বিপণিবিতান খুলে দিলেও জামদানি তৈরি বন্ধ থাকার কারণে চাহিদা অনুযায়ী জামদানি সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। অনেকেই লকডাউনের সময় ধার করে সংসার চালানোর কারণে পুঁজি হারিয়ে এখন তাঁত বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান। অর্থ সংকটে প্রয়োজনীয় সুতা কিনতে না পারার কারণেও অনেক তাঁতি তাদের তাঁত বন্ধ রাখছে।

সাদীপুর ইউনিয়নের বরাব গ্রামের জামদানিশিল্পী নূরনবী জানান, করোনার কারণে জামদানির চাহিদা একেবারেই কমে গেছে। তাই বাধ্য হয়েই অনেক তাঁত বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এ বছর নতুন করে করোনার প্রকোপ বাড়ায় তারা বেশ ক্ষতির মুখে পড়ে গেছেন। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করছেন তারা। বাংলাদেশ উইভার্স প্রোডাক্টস অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি মো. ওসমান গনি জানান, করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাবে জামদানি শিল্প মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। গত এক বছরেও এ শিল্প ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। বিশেষ করে সোনারগাঁয়ের জামদানিশিল্পীরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন। সরকারিভাবে আর্থিক প্রণোদনাসহ ঋণ সুবিধা না দিলে জামদানি শিল্পকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত