বসুন্ধরার এমডিকে ফাঁসানোর কথা কাকে বলেছিলেন নুসরাত?

আপডেট : ১৩ মে ২০২১, ০২:২৮ পিএম

আলোচিত মোসারাত জাহান মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহানের একটি কল রেকর্ড গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। এই কল রেকর্ডটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

মুনিয়ার আত্মহত্যার তিন দিন আগে ২৩ এপ্রিল নুসরাত একজনের সঙ্গে প্রায় সাত মিনিট কথা বলেন। ওই কথোপকথনের পুরোটাই ছিল বসুন্ধরার এমডিকে কীভাবে ফাঁসানো যায় সে বিষয়ে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল মুনিয়ার বোন ও ভগ্নিপতির ভাড়া করা ফ্ল্যাট থেকে তার লাশ উদ্ধার করে গুলশান থানা পুলিশ। ওই রাতেই গুলশান থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা হয়।

কয়েক দিন পর গত ২ মে মুনিয়ার বড় ভাই আশিকুর রহমান সবুজ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হত্যা মামলা করেন। দুটি মামলা মাথায় রেখে মুনিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।

কল রেকর্ডে শোনা যায়, মুনিয়ার মৃত্যুর আগেই নুসরাত বসুন্ধরার এমডিকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেন। ফোনের অপর প্রান্তে একজন পুরুষ কণ্ঠস্বর। তার সঙ্গে দীর্ঘ ৭ মিনিট কথা বলেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এই আলাপচারিতায় বসুন্ধরার এমডির কাছ থেকে কীভাবে মোটা অংকের টাকা নেওয়া যায়, বসুন্ধরার পত্রিকাগুলো যেভাবে হুইপপুত্র নাজমুল হক চৌধুরী শারুনের বিরুদ্ধে লিখেছে, সেটি কীভাবে বন্ধ করা যায় এবং শারুনের বিরুদ্ধে ব্যাংকের একজন ম্যানেজারের স্ত্রী আত্মহত্যার যে প্ররোচনার অভিযোগ এনেছে, সেটি কীভাবে বন্ধ করা যায়, এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সেই আলোচনার একপর্যায়ে নুসরাত বলেন, আনভীরকে (বসুন্ধরা এমডি) ফাঁসালেই সব বন্ধ করা যাবে। আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি, আপনি চিন্তা করবেন না।

নুসরাত কাকে এই কথাটি বলেছেন, এখন সেটি অনুসন্ধান করছে গোয়েন্দারা।

সূত্রগুলো বলছে, এই টেলিফোন কলের মূল উৎস এবং এই কলের সূত্র ধরে অনুসন্ধান করলেই, এই অপমৃত্যুর মামলার আসল মোটিভ পাওয়া যাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন সদস্য বলেন, ‘যে কোনো একটির মামলা মোটিভটা হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নুসরাত কেন এই মামলাটি করেছেন সেই মোটিভটি আমরা খুঁজছি। তিনি যদি সত্যি সত্যি তার বোনের আত্মহত্যার বিচার চাইতেন, তাহলে তিনি পোস্টমর্টেম রিপোর্টের অপেক্ষা করতেন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে জেনে বুঝে তারপর মামলাটা করতেন।’

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘কিন্তু এখানে তিনি (নুসরাত) সেটি করেননি। বরং তিনি যেটি করেছেন, আগে থেকেই যেন তিনি মামলার জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন। যদি মুনিয়ার মৃত্যু না হতো, তাহলে হয়তো বসুন্ধরার এমডির বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা করতেন।’

তিনি বলেন, ‘ওই কল রেকর্ড থেকে বোঝা যায় শারুন এবং সংশ্লিষ্টদের বাঁচানোর জন্য বসুন্ধরার এমডিকে যেকোনো মূল্যে ফাঁসানোই ছিল নুসরাতের মিশন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত