পাবনায় সড়ক নির্মাণে অনিয়মের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

আপডেট : ২০ মে ২০২১, ০৬:৩৮ এএম

পাবনার সাঁথিয়ায় সড়ক নির্মাণে অনিয়ম ও জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় সরকার বিভাগকে লিখিতভাবে জানিয়েও ফল মেলেনি। প্রতিকার চেয়ে ও নিয়ম অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার দাবিতে গতকাল বুধবার বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্র জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে আরটিআইপি প্রকল্পের অধীনে সাঁথিয়া উপজেলার জোড়গাছা থেকে সেলন্দা পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক মেরামতে দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দে কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিন্নাত আলী জিন্নাহ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক সংস্কারে বাইরে থেকে মাটি এনে কাজ করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আশপাশের কৃষিজমি ও খাল থেকে মাটি কেটে নিচ্ছে। বাধা দিলে মারধর ও মামলার হুমকি দিচ্ছে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সলিংয়ে ইট-খোয়ার পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে পোড়ামাটি। মানা হয়নি প্রস্থ ও পুরুত্বের নির্ধারিত পরিমাপ। সড়ক বাঁধাইয়ে নিম্নমানের ব্লক ব্যবহার করায় তা বসানোর আগেই ভেঙে যাচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ধুয়ে যাচ্ছে মাটি।

চক মধুপুর গ্রামের কলেজশিক্ষক আলাউদ্দিন মাস্টার বলেন, রাস্তা সংস্কারের শুরু থেকেই ঠিকাদার গায়ের জোরে ইচ্ছেমতো নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করছেন। শিডিউলে রাস্তার এইজিং ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি করার কথা থাকলেও তা করছেন না, পুরুত্ব ৪ ইঞ্চির স্থলে ২-৩ ইঞ্চি দিচ্ছেন। ইট-খোয়ার পরিবর্তে রাতে পোড়ামাটি দিয়ে রোলার করে দিচ্ছেন।

কৃষক আবদুল লতিফ বলেন, ঠিকাদারের লোকজন জোর করে আমার জমি থেকে মাটি কেটে নিচ্ছে। আমি বাধা দিলে বলেছে, সরকারি কাজে বাধা দিলে জেলের ভাত খাওয়ানো হবে। তারা আমার জমি নষ্ট করছে।

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, সড়ক নির্মাণে অনিয়ম হয়নি, কর্মকর্তাদের ঘুষ না দেওয়ায় ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ঠিকাদার জিন্নাত আলী জিন্নাহ বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণœ হয় এমন কাজ আমি কখনই করি না। এলজিইডি সাঁথিয়ার উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানকে চাঁদা না দেওয়ায় উনি এলাকাবাসীকে দিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি করছেন। উপজেলা প্রকৌশলী আবুল হাশেম বলেন, ঠিকাদার ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন। মিজানের বিরুদ্ধে ঠিকাদার আমাকেও অভিযোগ করেছিলেন, আমি তদন্ত করে এর সত্যতা পাইনি।

স্থানীয় সরকার বিভাগ, পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান বলেন, সংস্কারকাজে আশপাশের মাটি না কেটে বাইরে থেকে মাটি এনে কাজ করতে ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কাজটি চলমান, কাজের গুণগত মান যাচাই করেই বিল প্রদান করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত