মেয়রের উপস্থিতিতে উপজেলা চত্বরে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর

আপডেট : ২০ মে ২০২১, ১১:১০ পিএম

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদ চত্বরে নালিতাবাড়ী পৌর মেয়র আবু বক্কর সিদ্দিকের নির্দেশে জেলা ছাত্রলীগের উপ-মানব সম্পদ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক সাব্বির আহমেদ বাদশার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি মিটিং শেষে ফেরার পথে মেয়রের কর্মীরা তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ সাব্বিরের পরিবারের।

এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় মেয়রকে সালাম দেন ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির। সালাম দেওয়ার পর মেয়রের কর্মীরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি দিতে থাকে। পরে মেয়র ঘটনাস্থলে এসে তার কর্মীদের ফিরিয়ে নিয়ে যান। এ সময় নালিতাবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান মোকসেদুর রহমান লেবুকে মারধরের সময় সাব্বিরকে ফেরাতে দেখা যায় সিসিটিভি ফুটেজে।

 এ ঘটনায় সাব্বিরের বাবা আব্দুল মতিন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরো ২০ জনকে আসামি করে নালিতাবাড়ী থানায় মামলা করেছেন।

আব্দুল মতিন বলেন, ‘‘বুধবার মিটিং শেষ করে মেয়র আবু বক্কর তার কর্মীদের নিয়ে দোতলা থেকে নামছিলেন। নিচে আমার ছেলে সাব্বির দাঁড়ানো ছিল। মেয়রকে দেখেই সাব্বির হাত উঁচিয়ে সালাম দেন। সালামের জবাব না নিয়ে মেয়র তাকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘এই বেয়াদব তুই এহেনে কি করস রে’। এটা বলে উনি যাওয়ার পরই তার (মেয়রের) অনুসারীরা তাকে মারধর করেছেন। পরে নালিতাবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান লেবু সাব এসে আমার ছেলেকে ফিরাইছেন, তখন মেয়রও ওই জায়গায় এসে তার কর্মীদের নিয়ে গেছেন।”

তিনি আরো বলেন, ‘লেবু সাব (উপজেলা চেয়ারম্যান) আমার ছেলেকে উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী হাসপাতালে পাঠানোর পর আমি খবর পেয়ে হাসপাতালে গেলে ডাক্তাররা ময়মনসিংহে আমার ছেলেকে রেফার্ড করছে। এখন আমার ছেলে ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আছে। আমি এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার চাই’।

ঘটনার পরই জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছে।

জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় মেয়রের বিচার ও জড়িতদের শাস্তি দাবি করে পোস্ট করতেও দেখা গেছে।

শেরপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শোয়েব আহমেদ শাকিল বলেন, ‘একজন মেয়রের সামনে একজন ছাত্রলীগ কর্মী ও জেলা ছাত্রলীগের একজন পোস্টেড নেতাকে মারধরের ঘটনা লজ্জাজনক। সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, মেয়রের সাথে থাকা ছেলেগুলোই সাব্বিরের ওপর হামলা করেছে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আমাদের অনুরোধ, দ্রুত এর সাথে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আানা হোক’।

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বশির আহমেদ বাদল বলেন, ‘সাব্বিরের বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে। আসামি গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে’।

এদিকে এই ঘটনার পর উপজেলা চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করতে পুলিশকে চিঠি দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হেলেনা পারভীন।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু ঘটনাটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে ঘটেছে, তাই দপ্তরের নিরাপত্তার স্বার্থে দপ্তরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আর সিসিটিভি ফুটেজ তদন্ত করে, এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে’।

নালিতাবাড়ী পৌরসভার মেয়র আবু বক্কর সিদ্দিক ফোনে বলেন, ‘এ ঘটনার সাথে আমি বা আমার কোনো কর্মী সমর্থক জড়িত না। স্থানীয়ভাবে রাজনীতিতে আমাকে হেয় করার জন্যই এই প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যারা এই কাজের সাথে জড়িত আমি নিজেও তাদের বিচার চাই’।

নালিতাবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান মোকসেদুর রহমান লেবু বলেন, ‘ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক। উপজেলা পরিষদ ভবনে একজন ছাত্রলীগ নেতার ওপর হামলা নিন্দার কাজ। ইউএনও ইতোমধ্যে পুলিশকে অবহিত করে চিঠি দিয়েছেন। আর আমিও স্থানীয় সরকারের দপ্তরে নালিতাবাড়ীর এই অস্থিতিশীল পরিবেশের জন্য চিঠি দেব। থানায় একটি মামলা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার জন্য অনুরোধ রইল’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত