ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল

আপডেট : ২২ মে ২০২১, ০১:০৮ এএম

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদ চত্বরে নালিতাবাড়ী পৌর মেয়র আবু বক্কর সিদ্দিকের নির্দেশে জেলা ছাত্রলীগের উপমানবসম্পদ ও উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক সাব্বির আহমেদ বাদশার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি সভা শেষে ফেরার পথে মেয়রের কর্মীরা তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ করেছে সাব্বিরের পরিবার। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় মেয়রকে সালাম দেন সাব্বির। এরপরই মেয়রের কর্মীরা তাকে এলোপাতাড়ি কিলঘুসি দিতে থাকে। পরে মেয়র এসে তার কর্মীদের ফিরিয়ে নিয়ে যান।

এ ঘটনায় সাব্বিরের বাবা আবদুল মতিন গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ জনকে আসামি করে নালিতাবাড়ী থানায় মামলা করেছেন। আবদুল মতিন বলেন, বুধবার মিটিং শেষ করে মেয়র আবু বক্কর তার কর্মীদের নিয়ে দোতলা থেকে নামছিলেন। নিচে সাব্বির দাঁড়ানো ছিল। মেয়রকে দেখেই সাব্বির হাত উঁচিয়ে সালাম দেয়। সালামের জবাব না নিয়ে মেয়র তাকে ধমক দিয়ে বলেছেনÑ ‘এই বেয়াদব তুই এহেনে কী করস রে’। এ কথা বলে যাওয়ার পরই মেয়রের অনুসারীরা তাকে মারধর করেন। মেয়রের নির্দেশে তার কর্মীরা আমার ছেলেকে মারধর করেছে। পরে নালিতাবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান এসে আমার ছেলেকে রক্ষা করেন। তখন মেয়রও ওই জায়গায় এসে তার কর্মীদের নিয়ে গেছেন। এখন আমার ছেলে ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আছে। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার চাই।

ঘটনার পরই জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়রের বিচার ও জড়িতদের শাস্তি দাবি করে পোস্ট করতেও দেখা গেছে।

নালিতাবাড়ী থানার ওসি বশির আহমেদ বাদল বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে। এদিকে এ ঘটনার পর উপজেলা চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করতে পুলিশকে চিঠি দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হেলেনা পারভীন। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ তদন্ত করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে। নালিতাবাড়ী পৌরসভার মেয়র আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে আমি বা আমার কোনো কর্মী-সমর্থক জড়িত না। স্থানীয়ভাবে রাজনীতিতে আমাকে হেয় করার জন্যই এ প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যারা এ কাজের সঙ্গে জড়িত আমিও তাদের বিচার চাই।’ নালিতাবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান মোকসেদুর রহমান লেবু বলেন, ঘটনাটি ন্যক্কারজনক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত