সিলেটে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) উপপরিচালক (প্রশাসন) রুহুল আমিনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গত বুধবার কোতোয়ালি থানায় সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক জুবের খানসহ চারজনের বিরুদ্ধে জিডি করেন রুহুল আমিন। অভিযুক্ত অন্যরা হলেন বিউবোর কর্মচারী আতিকুল ইসলাম, মোস্তাকিম মিয়া ও লিয়াকত আলী।
এ বিষয়ে গতকাল শুক্রবার রুহুল আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জুবের খান আমাকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। এরপর থেকে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছি।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জুবের খান বলেন, ‘আমি তাকে প্রাণনাশের হুমকি কিংবা গালিগালাজ করিনি। কী ঘটেছে, তা অনেকেই দেখেছেন। তদন্ত করলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিউবোর একাধিক কর্মকর্তা জানান, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারতে যাওয়ার জন্য সম্প্রতি জুবের খান বিউবো কর্মকর্তাদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাহিদামতো টাকা না দেওয়ায় তিনি কর্মকর্তাদের নানাভাবে হেনস্তা করছেন।
এছাড়া সম্প্রতি বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগের দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের জের ধরে নগরীর বাগবাড়ির কার্যালয় একটি পক্ষ দখলে নেয়। পরে ওই কক্ষে নতুন তালা লাগিয়ে দেয় বিউবো কর্র্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার কক্ষের চাবির জন্য জুবের খানসহ অন্যরা রুহুল আমিনকে চাপ দেন। রাজি না হওয়ায় তাকে হত্যার হুমকি ও গালিগালাজ করেন জুবের খান।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জুবের খান বিউবোর কর্মচারী থাকাকালীনও নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করেছেন। স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার পরও বিউবো কার্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন এবং বিভিন্ন ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া ও সিবিএ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জুবের খান বলেন, ‘আমি নিজে বিউবোতে চাকরি করেছি, শ্রমিক রাজনীতি করেছি। এখন মহানগর আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক। বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারতে যাওয়ার জন্য চাঁদা দাবির প্রশ্নই ওঠে না। আমি এমন কাজ করেছি, কেউ প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতিই ছেড়ে দেব।’।
