রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নাসিরুল ইসলাম নয়ন (২০) হত্যাকাণ্ডের আট দিনের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মুরাদ হোসেন।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার দাবি, এই রকম ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের আসামি গ্রেপ্তার ও আট দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিলের ঘটনা বিরল। আর এই বিষয়টি গত শুক্রবার একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়াবির।
থানা সূত্রে বলা হয়, নাসিরুল ইসলাম নয়ন নিখোঁজ হবার তিন দিন পর ১০ মে তার লাশ উদ্ধার করা হয় পাশের গ্রামের একটি নির্মাণাধীন বাড়ির বালুর নিচে থেকে। সে সময় লাশটি পুতে রাখা ছিল বালুর নিচে।
নয়ন উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের দুদুখান পাড়ার শাহজাহান শেখের ছেলে। এ ঘটনা ঘটার পর দিন ১১ মে নাম উল্লেখ না করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
মামলা করার ৫ দিন পর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল আসামি মানিক হোসেন ওরফে আজমিরকে (১৮) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি উজানচর ইউনিয়নের দরাপ ডাঙার হিরু শেখের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে তিনি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
জবানবন্দির বরাত দিয়ে এসআই মুরাদ হোসেন জানান, নাসিরুল ও মানিকের তুচ্ছ বিষয়ে কথা-কাটাকাটি হয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ৭ মে রাতে মুঠোফোন নাসিরুলকে ডেকে মশিউর এর নির্মাণাধীন বাড়িতে নিয়ে এক সঙ্গে তালের রস পান করেন। মাতলামি করার একপর্যায়ে মানিক নাসিরুলকে হাতুড়ি দিয়ে মাথার পেছনে ও মুখে আঘাত করেন। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কিছুক্ষণের ভেতরে মারা যান। পরে কোদাল দিয়ে ঘরের এক কোনায় লাশটি পুতে রাখা হয়।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়াবির বলেন, আট দিনে অভিযোগপত্র দাখিল করা এটা আমাদের জন্য একটি বড় সফলতা। এ মামলার বিষয়ে যথাযথ দিকনির্দেশনা ও সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান এবং রাজবাড়ী পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান।
