মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে কলেজ বন্ধ থাকলেও দিনাজপুরের পার্বতীপুরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ‘সেমিস্টার ফি’ আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। পার্বতীপুরের মনমথপুর আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাস করা দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক।
বন্ধ থাকা কলেজ কর্তৃপক্ষের ফি আদায়ের বিষয়টি এলাকায় প্রকাশ পেলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গত ১২ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন দুই ছাত্রীর অভিভাবক।
জানা যায়, মনমথপুর আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান কয়েক মাস আগে এইচএসসি প্রথম বর্ষের দুই ছাত্রীকে মোবাইলে কল দিয়ে ডেকে এনে বলেন, প্রথম বর্ষ থেকে দ্বিতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য ৩ হাজার টাকা লাগবে। তা না হলে তারা দ্বিতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ হতে পারবে না। পরে তারা ২ হাজার ৮৭০ টাকা করে অধ্যক্ষকে এনে দেন। প্রথমে অধ্যক্ষ টাকা গ্রহণের রসিদ দিতে না চাইলেও পীড়াপীড়ির একপর্যায়ে তা দিতে বাধ্য হন। জানা গেছে, অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান শুধু ওই দুই ছাত্রীই নয়, আরও বেশকিছু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ‘সেমিস্টার ফি’ বাবদ বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করেছেন।
এক শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ, ভ্যান চালিয়ে খাই। আমার মেয়ের জন্য ঋণ করে প্রথম বর্ষ ও দ্বিতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ হওয়ার টাকা প্রদান করেছি। আজও সে ঋণ পরিশোধ করতে পারিনি।’ অন্য শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, আমার জানামতে এমন ফি আদায়ে বোর্ডের কোনো নির্দেশনা নেই। এটা অধ্যক্ষের সম্পূর্ণরূপে একটি নীতিবহির্ভূত কাজ।
মনমথপুর আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান বলেন, বিধি মেনে রসিদমূলে টাকা গ্রহণ করা হয়েছে। করোনাকালীন অনলাইনভিত্তিক বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হয়। কলেজের মাসিক ফিসহ অন্যান্য বিষয়ে ফি নেওয়া কোনো অপরাধ নয়। তাছাড়া সরকারি কোনো নির্দেশনাও বলেনি যে ফি আদায় করা যাবে না।
পার্বতীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল হক প্রধান বলেন, শুধু মাসিক বেতনটা নিতে পারবে কলেজ। ভর্তি, ব্যবহারিক পরীক্ষা, কম্পিউটার ল্যাব, বিদ্যুৎ, জাতীয় দিবস ও মসজিদ ফি নিতে পারবে না।
পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিদ কায়সার রিয়াদ বলেন, দুই ছাত্রীর অভিভাবকের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
