ঈদের পর গত দশদিনে ঢাকা মহানগরীর কভিড হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগী ভর্তি কমলেও চট্টগ্রামসহ অন্যান্য হাসপাতালগুলোতে রোগী বেড়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর হাসপাতালগুলোতে রোগী তুলনামূলক কম বাড়লেও দেশের অন্যান্য স্থানের হাসপাতালগুলোতে রোগী বেড়েছে বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দশ দিনে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর বাইরের হাসপাতালগুলোতে প্রায় ২৬ শতাংশ রোগী বেড়েছে। আর চট্টগ্রাম মহানগরীতে বেড়েছে ৭ শতাংশ। দেশের অন্যান্য স্থানের কভিড হাসপাতালগুলোর সাধারণ শয্যায় গত ১৪ মে ঈদের দিন রোগী ভর্তি ছিল ৮২৭ জন। সোমবার এ সব হাসপাতালে রোগী ভর্তি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪১ জন। একইভাবে ঈদের দিন চট্টগ্রাম মহানগরীর হাসপাতালগুলোতে রোগী ছিল ১৯৯ জন। আর সোমবার রোগী ছিল ২১৩ জন। অন্যদিকে ঢাকা মহানগরীর হাসপাতালগুলোতে ঈদের দিন রোগী ভর্তি ছিল ৯২১ জন। সোমবার ভর্তি রোগীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৮১০ জন।
এছাড়া এই দশ দিনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে আইসিইউ শয্যায় করোনা রোগী কমেছে এবং এর বাইরের হাসপাতালে প্রায় একই রকম রয়ে গেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরের হাসপাতালগুলোর আইসিইউতে ঈদের দিন রোগী ভর্তি ছিলেন ১১০ জন। আর সোমবার রোগী ভর্তি ছিলেন ১১১ জন। তবে সমগ্র দেশ বিবেচনায় নিলে ঈদের পরের দশ দিনে হাসপাতালগুলোর সাধারণ শয্যায় গড়ে ৬ শতাংশ রোগী বেড়েছে এবং আইসিইউ শয্যায় প্রায় ১৪ শতাংশ রোগী কমেছে।
এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ায় নতুন রোগী শনাক্তও বেড়েছে। তবে শনাক্ত হার ও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। সোমবার অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে ১৭ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ১ হাজার ৪৪১ জনের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্তের শতকরা হার ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ, যা গত চার দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে আরও ২৫ জন মারা গেছেন। এদিন ঢাকা ও চট্টগ্রামের চাইতেও বেশি রোগী মারা গেছেন খুলনা বিভাগে। বিভাগটিতে সোমবার নতুন করে ৭ জনের মৃত্যু হয়। আর ঢাকা ও চট্টগ্রামে মারা গেছেন ৬ জন করে।
গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর গতকাল ছিল ৪৪২তম দিন। অধিদপ্তরের এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ৪৮৬টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪২টি জিন-এক্সপার্ট, ৩১৫টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১২৯টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৮ হাজার ৩৩৫ জনের। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ১৭ হাজার ৬৮৩ জনের, যার মধ্যে ৪৮১টি নমুনা ছিল বিদেশ গমনেচ্ছুদের। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ৫৮ লাখ ৩৮ হাজার ২৯৫টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার ৫২১ জন। মোট পরীক্ষার বিপরীতে গড়ে ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ লোকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১২ হাজার ৪০১ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৮৩৪ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছে ৭ লাখ ৩১ হাজার ৫৩১ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫৭ ও সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২১ ও নারী ৪ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৯৬৯ পুরুষ ও ৩ হাজার ৪৩২ নারী মৃত্যুবরণ করেছেন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭২ দশমিক ৩২ ও নারী ২৭ দশমিক ৬৮ ভাগ। এদিন সর্বোচ্চ ৭ জন মারা গেছেন খুলনা বিভাগে। বাকিদের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ৬ জন করে এবং রাজশাহী ও রংপুরে ৩ জন করে মারা গেছেন। এ নিয়ে করোনায় এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১১৯ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২ হাজার ৩৪০, খুলনায় ৭৫৯, রাজশাহীতে ৬৫৬, রংপুরে ৪৫৪, সিলেটে ৪৪৪, বরিশালে ৩৭৪ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ২৫৫ জন মারা গেছেন। বয়স অনুযায়ী সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১৩, ৫১-৬০ বছরের ৭, ৪১-৫০ বছরের ৪ এবং ২১-৩০ বছরের ছিলেন ১ জন। এদিন ২৩ জন হাসপাতালে এবং ২ জন বাড়িতে মারা গেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৩৫ রোগীকে আইসোলেশনে ও ১ হাজার ৩৮৯ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১৮ হাজার ২৫ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪৩ হাজার ৪৭ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোয় ১১ হাজার ৯৭০টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৬৪টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ১ হাজার ১৪৩টি আইসিইউর মধ্যে এদিন রোগী ভর্তি ছিল ৩০৪টিতে।
