বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে উপকূলীয় বাগেরহাটের নদীতীরবর্তী তিন শতাধিক বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে।
বুধবার বেলা এগারোটায় শুরু হওয়া জোয়ারের পানি ঢুকে এসব বাড়িঘর প্লাবিত হয়।
এ ছাড়া বাঁধ উপচে ও স্লুইসগেটে দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে বাগেরহাট সদরে কিছু মাছের ঘের তালিয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বাড়িঘরে ওঠা পানি ভাটার সময় নেমে যাবে।
সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা উপজেলার বলেশ্বর নদের তীর সংলগ্ন বেড়িবাঁধের বাইরে বগী, তেড়াবেকা, খুড়িয়াখালী, সোনাতলা গ্রাম এবং মোরেলগঞ্জ উপজেলার দোনা, শ্রেণিখালি, নিশানবাড়িয়া ও ছোলমবাড়িয়া গ্রামের তিন শতাধিক বাড়ি প্লাবিত হয় বলে জানান বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্য।
বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও) এ এস এম রাসেল দুপুরে এই প্রতিবেদককে বলেন, বাগেরহাটের প্রধান নদনদীগুলোতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় মোংলা, রামপাল, শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও বাগেরহাট সদর উপজেলা কিছু এলাকায় বাঁধ উপচে ও স্লুইসগেট দিয়ে ভেতরে পানি ঢুকেছে বলে খবর পাচ্ছি।
এর মধ্যে বাগেরহাট সদরের মাঝিডাঙা এলাকায় স্লুইসগেট দিয়ে পানি ঢুকে কিছু মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। বাগেরহাটে কি পরিমাণ মাছের ঘের ভেসে গেছে তার তথ্য নিতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বাগেরহাটের নদনদীতে পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়েছে। বুধবারের জোয়ারের পানি ঢুকে বেশ কিছু নিচু এলাকার বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জোয়ারের পানিতে সাধারণ মানুষের কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্য বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বাগেরহাট প্রধান নদনদীগুলোতে জোয়ারের পানির প্রবল চাপ ছিল। বুধবারে এখানকার নদনদীতে ২ থেকে আড়াই ফুট পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। বাগেরহাটের তিনটি পোল্ডারের অধীনে থাকা বেড়িবাঁধের কয়েকটি স্থান দিয়ে পানি উপচে ভেতরে ঢুকেছে।
এ ছাড়া বাঁধের বাইরে থাকা কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভাটার সময় ওই জোয়ারের পানি নেমে যাবে। তবে কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়নি।
