গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশককে বাংলা সিনেমার সোনালি যুগ বলা হয়। সেই সোনালি দশকের শেষ বছরে ঢাকাই সিনেমায় এক নতুন নায়কের আগমন ঘটে। তার নাম শাকিব খান। শুধু শাকিব নয়, তার সঙ্গে নায়িকা ইরিন জামানেরও অভিষেক ঘটে (চিত্রনায়িকা মৌসুমীর ছোট বোন ইরিন জামান সিনেমায় নিয়মিত হননি)। ১৯৯৯ সালের ২৮ মে মুক্তি পায় এই নবাগত জুটির প্রথম ছবি ‘অনন্ত ভালোবাসা’। পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান। নতুন নায়ক-নায়িকার ছবি হওয়ায় ‘অনন্ত ভালোবাসা’ আলোচনাতেও ছিল। কিন্তু ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে সফলতা পায়নি। ছবিটি সফলতা না পেলেও নায়ক শাকিব খান থেমে যাননি। দৌড়াতে থাকেন একের পর এক পরিচালকের দোয়ারে। হ্যাংলা পাতলা গড়নের একজন সুদর্শন তরুণ দৌড়াতে দৌড়াতে পায়ের জুতোর তলা ক্ষয় করছেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছেন না। কীভাবেই বা পারবেন, তখন ঢাকার রূপালি পর্দায় উজ্জ্বল নক্ষত্রদের ছড়াছড়ি। চারদিকে গ্ল্যামারের জয়জয়কার। শাকিল খান-পপি, শাবনূর-রিয়াজ, ফেরদৌস-পূর্ণিমা, মান্না-ডিপজল, রুবেল, রাজীব, ডন, ইলিয়াস কাঞ্চন, হুমায়ূন ফরিদী, রাজ্জাক, আলমগীর- প্রতিটি ক্ষেত্রে নক্ষত্রদের ছড়াছড়ি। সেই প্রবল প্রতিযোগিতার মাঠে শাকিব খান কেবলই একটা নাম মাত্র।
দেখতে দেখতে সিনে জগতে ২২ বছর অতিক্রম করলেন শাকিব খান। আর প্রবল প্রতিযোগিতা অতিক্রম করে তিনি এখন ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষ নায়কের তকমায় ভূষিত। নিজের ক্যারিয়ারের ২২ বছর পূর্তির দিনে শাকিব খান স্মরণ করলেন নিজের অতীতের কথা। কৃতজ্ঞতা জানালেন পরিচালক, প্রযোজকসহ যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের সকলের প্রতি।
শাকিব খান বলেন, ‘যখন চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার শুরু করি তখন আমি অপরিপক্ব কিন্তু দূরদর্শী ছিলাম। জানতাম না কোথায় যাচ্ছি বা কি করব! শুধু এটুকু জানতাম, আমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং কোনো সময় হাল ছেড়ে দেয়া যাবে না। আজ যখন ফিরে তাকাই, তখন আমি সকল মানুষ এবং অভিজ্ঞতার কাছে কৃতজ্ঞ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার প্রথম চলচ্চিত্র ‘অনন্ত ভালোবাসা’র পরিচালক এবং প্রযোজকের কাছে কৃতজ্ঞ, যারা আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন। এরপর আমার সকল পরিচালক, প্রযোজক, সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং বিশেষ করে আমার ভক্তদের ধন্যবাদ দিচ্ছি যাদের জন্য আজকের আমি তৈরি হয়েছি।’

উল্লেখ্য, শাকিব খান বর্তমানে তপু খান পরিচালিত ‘লিডার: আমিই বাংলাদেশ’ সিনেমার শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এর আগে ওয়াজেদ আলী সুমনের ‘অন্তরাত্মা’ সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন।
শাকিব তার কর্মজীবনে একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে চারটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, তিনটি বাচসাস পুরস্কার ও চারটি সিজেএফবি পারফরম্যান্স পুরস্কার।
তার অভিনীত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো সুভা (২০০৬), আমার প্রাণের স্বামী (২০০৭), প্রিয়া আমার প্রিয়া (২০০৮), পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী (২০১৩), শিকারি (২০১৬), নবাব (২০১৭), রাজনীতি (২০১৭), সত্তা (২০১৭)।
