টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ের বনাঞ্চলে গাছ পরিচিতি, উদ্ভিদবিদ্যা অনুশীলন, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রায় তিন হেক্টর জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে আরবোরেটাম। আরবোরেটাম গাছের বৈজ্ঞানিক গবেষণার অনুশীলন উদ্যান, জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে কৃত্রিমভাবে গড়ে তোলা হয়ে থাকে।
বন বিভাগের রসুলপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জ অফিস সূত্রে জানা যায়, মধুপুর গড়ের এ বনাঞ্চলে প্রায় আড়াইশ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। বিশাল আয়তনের এ বনে রয়েছে নানা প্রাণিকুল।
স্থানীয় ও নৃ-গোষ্ঠী জনগণের সহায়তায় মধুপুর জাতীয় উদ্যানের ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়ন ও টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের জলই এলাকায় তিন হেক্টর জায়গায় উদ্ভিদ সংরক্ষণের জন্য গামারি, গর্জন, গজারি, চাপালিশ, কানাইডাঙ্গা, বহেড়া, ডুমুর, সিধা, ওজা, হরীতকী, আমলকী, গাদিলা, পিত্তরাজ, কাঞ্চন, বন আমড়াসহ বৈচিত্র্যময় হরেক প্রজাতির ৪ হাজার ৮০০ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই চারাগুলো এক-দেড় বছরে সতেজ হয়ে বেড়ে উঠেছে। সাজতে শুরু করেছে আরবোরেটাম। পর্যায়ক্রমে প্রজাতির সংখ্যা বাড়ানো হবে। এই আরবোরেটামের চারদিকে প্রাচীর ও একটি ব্যারাক নির্মাণ করা হবে। নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এসব তথ্য জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে।
জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা এস এম হাবিবুল্লাহ জানান, গবেষণা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, বিপদাপন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলের আবাসস্থলের সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জবরদখল ও অবৈধ গাছ কর্তনরোধ করে বননির্ভর স্থানীয় বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে দরিদ্রতা নিরসনকল্পে এ আরবোরেটাম করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক জানান, এ আরবোরেটাম শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের গবেষণার কাজে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। মধুপুরের বন থেকে যেসব উদ্ভিদ হারিয়ে যাচ্ছে, সেগুলো সংরক্ষণ করা যাবে। এখান থেকে বীজ ও কাটিং সংগ্রহ করা যাবে। এটা হবে দেশের মধ্যে অন্যতম একটি আরবোরেটাম।
