কাজ শেষ না হতেই ভেঙে পড়ল আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর

আপডেট : ৩১ মে ২০২১, ১২:২০ এএম

ঝালকাঠির রাজাপুরে মুজিববর্ষের উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১১টি ঘর নির্মাণকালেই ভেঙে পড়েছে। গত শুক্রবার এসব ঘরের বারান্দাসহ বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যাদের জমি নেই ঘর নেই এমন পরিবারের জন্য মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় উপজেলায় ৩৩৩টি ঘরের মধ্যে গালুয়া দুর্গাপুরের প্রকল্পে ৪৬টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প ছাড়া অন্যান্য প্রকল্প থেকে ইতিমধ্যে ১১৫টি ঘর নির্মাণ শেষে সুবিধাভোগীদের মাঝে চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। বাকি ঘরগুলোর নির্মাণকাজ চলছে। উপজেলা প্রশাসন সরাসরি এ নির্মাণকাজের তত্ত্বাবধান করে।

গত ২৮ মে গালুয়া দুর্গাপুরের প্রকল্প এলাকা ঘুরে স্থানীয় গোলাম মোস্তাফ, মিয়া আব্দুল খলিল, দুলাল গাজী, মাওলানা ওহিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে জানা  গেছে, পোনা নদীর পাড়ে নিচু জমি স্বাভাবিক জোয়ারেই ডুবে যায়। এই নিচু জায়গায় আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র এ তিন মাস সব সময় পানিতে ডুবে থাকে। ইয়াসের প্রভাবে ও জোয়ারের স্রোতে পানি উঠে ঘরের নিচের বালু সরে গিয়ে গত শুক্রবার নির্মাণাধীন ১১টি ঘরের বারান্দাসহ বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে। নামমাত্র বালু ভরাট করে সঙ্গে সঙ্গে ইট বিছিয়ে নির্মাণকাজ করায় এমনটা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। নিম্নমানের সামগ্রী ছাড়াও প্রয়োজন মতো বালু ফেলে উঁচু না করে নিচু জমিতে এসব ঘর করারও অভিযোগ করেন তারা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মামুন অর রশীদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়ম মেনেই প্রকল্পের কাজ করা হয়েছে। বন্যার ক্ষতি, আমাদের তো কারও হাতে নেই।

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোক্তার হোসেন বলেন, আমরা প্রকল্পে কাজ শুরু করার আগে এই জমিতে প্রায় আড়াই ফুট উঁচু করে বালু ফেলে আশপাশের ঘরের সমান উঁচু করে কাজ শুরু করেছি। কিন্তু ইয়াসের প্রভাবে পানি বৃদ্ধির কারণে বালু সরে গিয়ে কয়েকটি ঘরের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামত শুরু করেছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত