রেমিট্যান্সে ২% প্রণোদনা বহাল, কমছে বরাদ্দ

আপডেট : ০৩ জুন ২০২১, ১১:১৩ পিএম

করোনার মধ্যেও প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন থাকায় এ খাতের নগদ প্রণোদনায় সরকারের দেওয়া মোট বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। যদিও রেমিট্যান্সে বিদ্যমান ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা আগামী অর্থবছরেও বহাল থাকবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আসন্ন ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে রেমিট্যান্সের ওপর নগদ প্রণোদনায় ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন তিনি। তবে রেমিট্যান্সের প্রণোদনায় বর্তমানে এর থেকে বেশি ব্যয় করছে সরকার। চলতি অর্থবছরের সংশোধনী বাজেটে এ খাতের প্রণোদনার বরাদ্দ ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। মূল বাজেটে এই বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রেমিট্যান্সে প্রণোদনার হার কমবে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রেমিট্যান্সের অঙ্কের সীমা কমিয়ে আনা হতে পারে। অর্থাৎ বড় অঙ্কের রেমিট্যান্সের ওপর যাতে বেশি প্রণোদনা না যায় সেজন্য নতুন শর্ত আরোপ করা হতে পারে। তবে এসব বিষয় নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের ওপর। 

বর্তমানে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত রেমিট্যান্সের ওপর কোনো ধরনের কাগজপত্র জমা ছাড়াই ২ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। এর বেশি রেমিট্যান্স পাঠালে এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রাদি জমা সাপেক্ষে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। ফলে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে রেমিট্যান্স ও বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ২ হাজার ২৮৩ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা যা এর আগের ২০১৯-২০ অর্থবছরের একই সময়ে আসা রেমিট্যান্সের তুলনায় ৩৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি।

২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৬৩৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

গত মে মাসে ২১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা, যা এখন পর্যন্ত এক মাসে আসা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। গত বছরের জুলাইয়ে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল, ২৫৯ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো কোনো ব্যাংক সরকারের ২ শতাংশ প্রণোদনার সঙ্গে আরও ১ শতাংশ যোগ করে মোট ৩ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে। এটা রেমিট্যান্স বাড়াতে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে রেমিট্যান্স বাড়ায় দেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভও বাড়ছে। গত ১ মে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ দ্বিতীয়বারের মতো ৪ হাজার ৫০০ কোটি (৪৫ বিলিয়ন) ডলারের ঘর অতিক্রম করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত