মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে কবর খুঁড়ে মরদেহের হাড় চুরির অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ আসার কথা শুনে এক কথিত কবিরাজ দম্পতি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।
শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কমলগঞ্জের উসমানগড় এলাকায় পুরোনো কবর খুঁড়ে মরদেহের হাড় চুরি করে কথিত কবিরাজি করে আসছিলেন গ্রামের লাল শাহের মাজার ও কবরস্থান সংলগ্ন বাড়ির গোলাপ মিয়া (৬৫) ও তার স্ত্রী মায়া বেগম (৫৭)। বৃহস্পতিবার এই দম্পতি দেড় বছর আগে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির কবর খুঁড়তে গেলে মৃত ব্যক্তির স্বজনরা টের পেয়ে পুলিশে খবর দেন ও কবর পাহারার ব্যবস্থা করেন। এদিকে পুলিশ আসার খবর পেয়ে ওই কবিরাজ দম্পতি শুক্রবার বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
আব্দুল মতিন জানান, কবিরাজ দম্পতি তার ভাই রকিব মিয়ার দেড় বছরের পুরোনো কবর ভেঙে মরদেহের হাড় নেওয়ার চেষ্টা করেন। তারা কবরের ওপরের মাটি সরিয়ে বাঁশও তুলে ফেলেন। বিষয়টি টের পেয়ে তারা সারা রাত কবর পাহারা দেন। শুক্রবার সকালে শমসেরনগর পুলিশ ফাঁড়িতে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন।
তিনি জানান, পরে এসআই আব্দুর রহমান গাজী ও এএসআই এনামুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ আসছে টের পেয়ে কবিরাজ দম্পতি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় আব্দুল মতিন বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় কবিরাজ দম্পতির ওপর একটি অভিযোগ করেছেন।
গ্রামের কয়েকজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, গোলাপ মিয়া ও তার স্ত্রী মায়া বেগম মিলে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে ঠুনকা, কুফরি ও কবিরাজি করে আসছেন। তারা সুযোগ বুঝে পুরোনো কবর ভেঙে মরদেহের হাড় এনে কবিরাজির কাজে ব্যবহার করেন। এমনকি মরদেহের কাফনের কাপড় কেটে কবিরাজির কাজে ব্যবহার করেন। এ ছাড়া তারা পুরোনো কবরের ভেতরে তাবিজ পুতে রাখেন বলেও অভিযোগ করেন গ্রামবাসী।
অভিযোগ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেও পালিয়ে যাওয়ার কারণে কবিরাজ গোলাপ মিয়া ও তার স্ত্রী মায়া বেগমকে পাওয়া যায়নি। তবে শমসেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আব্দুর রহমান গাজী জানান, তারা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই ভণ্ড কবিরাজ দম্পতি পালিয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে মতিন মিয়ার ভাই রকিব মিয়ার দেড় বছরের পুরোনো কবর ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তারা গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে কবিরাজ দম্পতির বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ পেয়েছেন।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান বলেন, অভিযোগকারী থানায় এসেছেন। অভিযোগপত্র হাতে পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
