কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নে পারিবারিক কলহের জের ধরে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে উখিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে।
নিহতের স্বজনদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
শুক্রবার রাত ১০টার দিকে পালংখালী বাজার এলাকায় ইউপি মেম্বার নুরুল হকের ছোট ভাই জিয়াবুল হকের বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, উপজেলার পালংখালী বাজার এলাকার মৃত নাজির আহমদের ছেলে জিয়াবুল হকের স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার (১৭) বাড়িতে কেউ না থাকা অবস্থায় ফ্যানে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গয়ালমারা মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত চার বছর পূর্বে পালংখালী মোছারখোলা এলাকার নুরুল আলমের অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু কন্যা ইয়াছমিন আক্তারের সঙ্গে পালংখালী বাজার এলাকার মৃত নাজির আহমদের ছেলে জিয়াবুল হকের বিয়ে হয়। তখন মেয়ের বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর।
তখন থেকে তাদের সংসারে পারিবারিক কলহ লেগে থাকত প্রতিনিয়ত। এ পর্যন্ত তাদের সংসারে সন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহ আরও বেড়ে গেছে।
একপর্যায়ে স্বামী জিয়াবুল হক রোহিঙ্গা নারী বিয়ে করবে বলে জানালে তার বর্তমান স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার আত্মহত্যা করেন।
নিহতের বাবা নুরুল আলম রাতে গয়ালমারা হাসপাতালে এসে আহাজারি করেন এবং তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন।
ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে পালংখালী ইউনিয়নের ৭ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল হক তড়িঘড়ি করে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ দাফনের জন্য কোর্ট থেকে অনুমতি নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে রাত ৩টার দিকে পুলিশ গয়ালমারা হাসপাতাল থেকে লাশ উখিয়া থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ও উখিয়া থানার উপপরিদর্শক মো. সালমান লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
