দেশে পরিবেশ সংরক্ষণের নানা আইন তৈরি হলেও তার সঠিক বাস্তবায়ন নেই বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, পরিবেশ পুনরুদ্ধারে নতুন প্রজন্মকে সক্রিয় হতে হবে। গতকাল শনিবার বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ডা. দিবালোক সিংহের সভাপতিত্বে ও বারসিকের প্রজেক্ট ম্যানেজার ফেরদৌস আহমেদের সঞ্চালনায় জুম অনলাইনে এক আলোচনা সভায় তারা এ কথা বলেন।
ইউএস এইড এবং এফসিডিওর অর্থায়নে এবং কাউন্টার পার্ট ইন্টারন্যাশনালের কারিগরি সহযোগিতায় ‘ঢাকাকলিং’ কনসোর্টিয়াম প্রকল্পের আওতায় বারসিক, ডিএসকে, কাপ ও ইনসাইট নামে চারটি সংগঠন অংশ নেয়।
ডা. দিবালোক সিংহ বলেন, বিগত ৫০ বছরে বাংলাদেশে বৈষম্যের পাল্লাই ভারী হয়েছে। দেশটি বৈষম্যের দেশেই পরিণত হয়েছে। নগরের প্রান্তিক মানুষদের জন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই, কিন্তু তাদেরকে থাকতে হচ্ছে সবচেয়ে অপরিচ্ছন্ন জায়গায়। দেশে পরিবেশ সংরক্ষণের নানা আইন তৈরি হলেও তার সঠিক বাস্তবায়ন নেই।
ডা. লেলিন বলেন, বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হচ্ছে মানে প্রতিবেশ ও পরিবেশের একেকটা অংশ ধ্বংস হচ্ছে। আর এগুলো ধ্বংস করছে মানুষ। আমাদের এখন দায়িত্ব হলো বিলুপ্তপ্রায়দের রক্ষা করা আর যেগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে সেগুলোকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা। মানুষকে ভালো থাকতে হলে তার চারপাশকে ভালো রাখতে হবে।
শিক্ষক জোবাইদা নাসরিন বলেন, করোনায় মেডিকেল বর্জ্য চারদিক সয়লাব আর এগুলো দেখে মনে হচ্ছে দেখার কেউ নেই। আমরা দেখি নগরের যত্রতত্র ময়লার ভাগাড়, এমনকি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়েও দিনের পর দিন ময়লার ট্রাক পড়ে থাকে। আমাদের প্রাণ ও প্রকৃতির প্রতি সংবেদনশীলতা তৈরি করা জরুরি। আজকে গাছ কাটতে কোনো অনুমতি লাগে না, তাই পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে।
মূল প্রবন্ধে পাভেল পার্থ বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, বন উজাড়, জলাভূমি ভরাট, বৃহৎ খনন, রাসায়নিক কৃষি নানাভাবে দেশের প্রাণ-প্রকৃতির বিকাশকে রুদ্ধ করছে। করোনা মহামারীকালে দুনিয়াব্যাপী এই উপলব্ধি আবার চাঙ্গা হয়েছে যে, প্রাণ-প্রকৃতি ও বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষা ছাড়া এই গ্রহে সকলের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। মানুষসহ সব প্রাণসত্তার জীবন বিকাশে স্থানীয় পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র প্রতিনিয়ত যে অবদান রাখছে আমরা এর হিসাব কষে দেখছি না। অথচ পরিবেশ ও বাস্তুসংস্থানের এই বিনামূল্যের অক্লান্ত সেবার জন্যই আমরা বেঁচে আছি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বারসিকের নির্বাহী পরিচালক সুকান্ত সেন ও কাপের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রেবোক সান ইয়াত।
