দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার সর্বশেষ ও বৃহৎ সিনেমা হল ‘উত্তরা টকিজ’ বন্ধ হয়ে যায় ২০১৯ সালে জুনে, পরের বছরে ভেঙে ফেলা মূল প্রদর্শন কক্ষ।
হল ভাঙলেও দ্বিতীয় তলায় মেশিন ঘরটি ও নিচতলার প্রবেশদ্বার ও টিকিট কাউন্টার এখনো অক্ষত রয়েছে। সেখানে দেখা গেছে অভিনব রূপান্তর।
টিকিট কাউন্টারে সঙ্গে করা হয়েছে হাত ধোয়ার জন্য বেসিন। আর সামনের অংশে উত্তরা টকিজ সিনেমা হলের আদলে নাম দেওয়া হয়েছে ‘উত্তরা হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট’।
মূল মালিকের কাছ থেকে শাহজাহান আলী জায়গাটি ভাড়া নিয়ে এই ‘উত্তরা হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট’ নামে চালাচ্ছেন।
বছর দু-এক আগেও উত্তরা টকিজই ছিল পার্বতীপুরের একমাত্র সিনেমা হল। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়েছেন সেখানকার কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা।
একটা সময় উত্তরা টকিজ সিনেমা হলটি ছবি প্রদর্শনে জৌলুশ ছড়াত শহর থেকে গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও পরিবার-পরিজন নিয়ে সিনেমা দেখতে হলে যেতো। ছিল শত শত দর্শকের ভিড়। এখন যেন মানুষ সিনেমা হলের নামই কেউ মুখে নেয় না।
সে সময় টিকিট কাটার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে উৎসব ছিল কাউন্টারের সামনে। অনেকে অগ্রিম টিকিট বুক করত কাউন্টার থেকে। ঘাম ঝরিয়ে টিকিট কাটা কষ্ট সাধ্য ছিল। তারপরও ভালো ছবি দেখার জন্য উপভোগ করতো দর্শক। পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়ী, সৈয়দপুর, বদরগঞ্জ ও চিরিরবন্দর উপজেলা থেকেও ছবি উপভোগের জন্য দর্শকের সমাগম ঘটত হলটিতে।
১৯৮৫ সালে পার্বতীপুর পৌর শহরের নতুন বাজারে যৌথ মালিকানায় নির্মাণ করা হয় উত্তরা টকিজ। সিনেমার সেই রমরমা দিনগুলো ও সিনেমা হলের বর্তমান অবস্থার সেই দিন ফুরিয়েছে কবেই।
কথা হয় পার্বতীপুরের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রদীপ দত্ত বলেন, শুধু মাত্র অশ্লীলতা ও জীবন ভবিষ্যৎ ছবি তৈরি না হওয়া। বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ছবি তৈরি হওয়ার কারণে মধ্যবিত্তরা সিনেমা দেখা থেকে দুরে সরে যাচ্ছে।
উত্তরা টকিজ ছাড়াও রেল অঙ্গনে সামাদ ইনস্টিটিউটে ‘ঝিকিমিকি সিনেমা’, শহরের ইব্রাহীমনগরে ‘রূপসী ঘর সিনেমা’, ভবানীপুরে ‘সাঁঝের মায়া টকিজ’, পার্বতীপুর ক্যান্টনমেন্টের ‘গ্যারিসন সিনেমা’ ও ‘সাগর টকিজ’ নামের আরও ৫টি সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে।
