দুই সপ্তাহের লকডাউনেও সুফল পাচ্ছে না সাতক্ষীরাবাসী। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু। বুধবার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আরো চার রোগী মারা গেছেন।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন, দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় শেষ জেলা ও সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে সাতক্ষীরায় দুই সপ্তাহের লকডাউন চলল। কিন্তু আশানুরূপ ফল মিলল না। সংক্রমণ ও মৃত্যু সমানভাবে বাড়ছে তো বাড়ছেই। এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করলে লকডাউন বেশি এগিয়ে নিয়ে যাওয়াও কঠিন। এত সংক্রমণ, এত মৃত্যু তারপরও মানুষের সচেতনতা বাড়ছে না। বরং উল্টো চিত্র। সামান্য মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলেও পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব ছিল।
তিনি জানান, বুধবারও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা মেডিকেলের করোনা ওয়ার্ডে তিনজন ও বেসরকারি (ন্যাশনাল) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজন মারা গেছেন।
গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫৫ জনের। করোনা উপসর্গে ২৫২ রোগীর মৃত্যু হয়। করোনা পজেটিভ হয়েছে মোট ২৬১১ জন।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, জেলাজুড়ে ১৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। সচেতন করা হচ্ছে, জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি করা না গেলে সাতক্ষীরার পরিস্থিতি যতটা খারাপ হচ্ছে তা আরো বাড়বে। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় লকডাউনের সময়সীমা বাড়ছে। করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমাতে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভা থেকে লকডাউন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, লকডাউন কার্যকর করার দায়িত্ব প্রশাসনের। মানুষকে সচেতন করে তোলার দায়িত্বও প্রশাসনের। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা গেলে পরিস্থিতির অবনতি অবশ্যই ঠেকানো যেত।
ত্রাণ কার্যক্রম না থাকলে লকডাউন কার্যকর করা সম্ভব না বলেও আক্ষেপ করেন তিনি।
