টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সন্ত্রাসী হামলায় আহত আব্দুর রশিদ ১৮ দিন চিকিৎসার পর মৃত্যুবরণ করেছেন।
৩৬ বছরের আব্দুর রশিদ আলীপুর গ্রামের আজগর আলীর ছেলে। বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে পুনরায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আলীপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের সঙ্গে একটি জমি নিয়ে একই এলাকার মো. হালিম মিয়ার দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলছিল। এ সংক্রান্ত মামলায় আদালত আব্দুর রশিদের পক্ষে রায় দেন। গত ৩১ মে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আদালতের রায়ের বিষয়টি উভয় পক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে আসে।
রায়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওই দিনই বিকেলে মো. হালিম মিয়া, তার দুই ছেলে ইয়াকুব ও ইউসুফ, ভাতিজা বাবু, সাজেদুল, সুরুজ, সোলাইমান, আবু বক্কর, শরিফুলসহ একদল লোক দা, বল্লম, লাঠি ইত্যাদি নিয়ে আব্দুর রশিদের বাড়িতে হামলা চালায়। এতে আব্দুর রশিদসহ কয়েকজন আহত হন।
আহতদের কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে আব্দুর রশিদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
১৫ দিন হাসপাতালে থাকার পর জেলায় করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ১৪ জুন বাড়িতে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তাকে ছুটি দেওয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে তার ক্ষতস্থানে রক্তক্ষরণ শুরু হলে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুর রশিদকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মেজ ভাই সাঈদ হোসেন জানান, জমির মামলায় আদালত তাদের পক্ষে রায় দেয়। ওই রায় মেনে নিতে না পেরে মো. হালিম মিয়া আত্মীয় ও সন্ত্রাসীদের নিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে আব্দুর রশিদসহ কয়েকজনকে আহত করে। আব্দুর রশিদকে যারা হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, ঘটনার দিনই আলীপুর গ্রামে হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর পরই প্রধান আসামি মো. হালিম মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। মামলার ৮ আসামি আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনে নিয়েছে।
আহত আব্দুর রশিদকে বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যাওয়ার বিষয়টি আদালতকে থানার পক্ষ থেকে লিখিতভাবে অবহিত করা হবে বলে ওসি জানান।
